সমবয়সী দম্পতিরাই সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট বৈবাহিক জীবনে - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 18 February 2020

সমবয়সী দম্পতিরাই সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট বৈবাহিক জীবনে




অনেককেই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে দেখা যায় যে সমবয়সী কাউকে বিয়ে করাটা ঠিক হবে নাকি দুইজনের মধ্যে বয়সের কিছুটা হলেও ব্যবধান রাখা উচিৎ হবে। এক্ষেত্রে ব্যবধান বলতে শুধু আমাদের দেশেই নয়, এমনকি পশ্চিমা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও স্বামীর বয়স স্ত্রীর থেকে বেশি হবে এমনটিই স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হয়। স্ত্রী যদি কোনভাবে স্বামীর চেয়ে একদিনেরও বড় হয় সেটি একটি চাঞ্চল্যকর, রসালো আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে বিবেচিত হয়। সমবয়সী দম্পতিরাই সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা
বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল বলছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যদি বেশ বড় একটা বয়সের ব্যবধান থাকে, তবে তা তাদের গড় আয়ুর ক্ষেত্রে খুবই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত নারীদের ক্ষেত্রে। একটি নারী যদি তার চেয়ে বয়সে ছোট কোন পুরুষকে বিয়ে করে এবং তাদের মধ্যকার বয়সের ব্যবধান অন্তত সাত বছর হয়ে থাকে, তবে ওই নারীর মৃত্যুহার শতকরা ২০ ভাগ বেড়ে যায়। তবে শুধুমাত্র এই একটি তথ্য থেকেই যেন কেউ সিদ্ধান্তে পৌঁছে না যান যে তবে নারীদের উচিৎ বয়সে বড় পুরুষকেই বিয়ে করা। কারণ সেখানেও বিপদ আছে। স্বামীর বয়স যদি স্ত্রীর চেয়ে অন্তত পাঁচ বছর বেশি হয়, তাহলেও স্ত্রীর আয়ু উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। প্রায় বিশ লক্ষ ড্যানিশ দম্পতির উপর পরীক্ষা-নীরিক্ষা চালিয়ে গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, একজন নারীর পক্ষে সবচেয়ে ভালো হয় যদি তিনি তার সমবয়সী কোন পুরুষকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেয়। পুরুষদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রায় একই। কোন স্বামী যদি তার স্ত্রীর চেয়ে সাত থেকে নয় বছরের বড় হয়ে থাকে, তবে তার মৃত্যুর হার, যে স্বামীর বয়স তার স্ত্রীর সমান, তার থেকে অন্তত ১১ শতাংশ বেশি হয়ে থাকে। স্বামীর চেয়ে বয়সে বড় স্ত্রীরা প্রবল একাকীত্ব ও মানসিক চাপের কারণে দ্রুত মারা যেতে পারে।
দাম্পত্যজীবন
সমবয়সী স্বামী-স্ত্রীরাই সবচেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করে থাকে। গবেষণার ফলাফল জানাচ্ছে, সমবয়সী স্বামী-স্ত্রীদের মধ্যে ডিভোর্সের প্রবণতা সবচেয়ে কম দেখা যায়। স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য যদি এক বছর হয়, তাহলে তাদের মধ্যে ডিভোর্সের হার ১ শতাংশ বেড়ে যায় (সমবয়সী স্বামী-স্ত্রীদের তুলনায়)। যদি তাদের মধ্যে বয়সের পার্থক্য পাঁচ বছর হয়, তাহলে ডিভোর্সের হার বেড়ে যায় ১৮ শতাংশ। আর তাদের মধ্যে বয়সের পার্থক্য যদি ১০ বছরের হয়, তাহলে ডিভোর্সের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ শতাংশ। এছাড়াও বয়সের ব্যবধান ২০ বছর হলে ডিভোর্সের হার হয় ৯৫ শতাংশ, আর বয়সের ব্যবধান ৩০ বছর হলে তো ডিভোর্সের হার ১০০ শতাংশই ছাড়িয়ে যায়।
উপায়
স্বামী-স্ত্রী দুজনের পক্ষেই সমান সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব? এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ওয়াং শেং লি। তিনি বলেন, “সমবয়সী দম্পতিরাই পারে সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট হতে। যেহেতু তারা উভয়েই নিজেদের ক্যারিয়ার ও সামগ্রিক জীবনের একই পর্যায়ে অবস্থান করে, তাই তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলোও একই রকম হয়ে থাকে।” সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও বর্তমানে সমানতালে বলিউড-হলিউড দাপিয়ে বেড়ানো প্রিয়াঙ্কা চোপড়া যেই না ঘোষণা দিলেন যে তিনি গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছেন নিজের চেয়ে বছর দশেকের ছোট নিক জোনাসের সাথে, তখন থেকেই ঢি ঢি পড়ে গেল চতুর্দিকে।
বিয়ে এমন একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান যেখানে অংশগ্রহণকারী নারী ও পুরুষের সিদ্ধান্তই মুখ্য ও চূড়ান্ত হওয়া উচিৎ। অন্যের সিদ্ধান্তকে সম্মান দেখাতে শিখুন। সব বিষয় নিয়ে মজা করতে গিয়ে নিজেদেরকেই ছোট করবেন না। বিয়ের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে আবির্ভূত হয় যে বিষয়টি, তা হলো বয়স। সমবয়সী দম্পতিরাই পারে সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট হতে। সমবয়সী বিয়ে করেও অনেকই দারুণ সুখী। বিষয়টি আসলে তাদের দুজনের বোঝাপড়ার। নিজেরা নিজেদের সাথে খাপখাইয়ে নিতে পারে তাহলে কোন সমস্যা হতে হবে না। তবে বিয়েটা মানুষের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ সিন্ধান্ত তাই সময় নিয়ে চিন্তা করেই সিন্ধান্ত নেওয়া উচিৎ।







সূত্র: বিডি24 রিপোর্ট

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad