হঠাৎ যখন ফুলে যায় মাড়ি - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 13 February 2020

হঠাৎ যখন ফুলে যায় মাড়ি





মূলতঃ প্রদাহজনিত কারণে দাঁতের মাড়ি ফুলে যায়। কিন্তু দাঁতের প্রদাহ থেকে দাঁতের গোড়াও ফুলে যেতে পারে। মাড়ি ফোলা ভাব হলে দাঁতের মাড়ি লাল বা গোলাপি রং ধারণ করে। এ সমস্যাকে অ্যাবসেস বলা হয়। অ্যাবসেস হলে ওই স্থানটি ফুলে যায়, ব্যথা হয়। কখনও কখনও ফোলা স্থান থেকে পুঁজও বের হয়। সমস্যাটি এক দিনে সৃষ্টি হয় না। সাধারণত অপুষ্টি, মুখের সংক্রমণ, দাঁতের যত্ন না নেওয়া, নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার না করা প্রভৃতি কারণে মাড়ি ফোলা ভাব দেখা দেয়। আর দাঁতের মাড়িতে অনেক ধরনের রোগ দেখা দেয়, তার মধ্যে মাড়ি ফুলে যাওয়া অন্যতম। 
দাঁতের প্রদাহজনিত রোগ দেখা দিলে, তা অনেক দিন চিকিৎসা না করালে দাঁতের ওই গোড়ায় ফোলা ভাব দেখা দেয়। অনেক সময় সেখান থেকে পুঁজ বের হয় এবং তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়ে থাকে। তাছাড়া এ ধরনের সমস্যায় মুখে দুর্গন্ধও হতে পারে। আবার শক্ত জাতীয় খাবার যেমন— মাংসের  হাড় বা শক্ত আখ চিবিয়ে খাওয়ার কারণে দাঁতের গোড়া বা রুট ভেঙে যায়, ফলে একই ধরনের ফোলা দেখা যেতে পারে। সাধারণত দাঁতে দুই ধরনের ফোলা ভাব দেখা দেয়। প্রথমত, দাঁতের গোড়ার ফোলা পেরিএপিকাল অ্যাবসেস। দ্বিতীয়ত দাঁতের চারপাশের মাড়ির লালচে ফোলাকে পেরিওডন্টাল অ্যাবসেস বলা হয়। পেরিএপিকাল অ্যাবসেসে দাঁতের শিকড়ের চারপাশে ফুলে যায়, তীব্র ব্যথা হয় এবং দাঁতের চিকিৎসা (রুট ক্যানাল বা দাঁত তুলে ফেলা ইত্যাদি) না করা পর্যন্ত ইনফেকশন ভালো হয় না। অন্যদিকে পেরিওডেন্টাল অ্যাবসেস দাঁতের চারপাশে থাকা গাম বা মাংসপেশির ইনফেকশন। এ ধরনের সমস্যা ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসাযোগ্য।
প্রতিকার :
পেরিওডেন্টাল অ্যাবসেস পেরিএপিকাল অ্যাবসেসের তুলনায় কম বিপজ্জনক। পেরিএপিকাল অ্যাবসেস হলে যথাসময়ে চিকিৎসা না করলে, তা আশপাশের স্থানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ থেকে অনেক সময় লাডউইগ অ্যানজাইনাম হতে পারে।  লাডউইগ অ্যানজাইনাম হলে গলার চারপাশে আকস্মিক পুঁজ জমে ফুলে যায় এবং রোগী নিঃশ্বাস নিতে পারে না। তাই এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। পেরিএপিকাল অ্যাবসেস হলে রুট ক্যানেল থেরাপি দিয়ে সারিয়ে তোলা সম্ভব, তবে অনেক সময় আক্রান্ত দাঁত ফেলে দেওয়ার প্রয়োজন হয়। পেরিওডন্টাল অ্যাবসেস হলে স্কেলিং করলে উপশম হয়। দাঁত ব্রাশের পাশাপাশি মাড়ি ম্যাসেজ করানো জরুরি, এতে মাড়ি রোগ কম হয়।







সূত্র: এমএনজি24

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad