দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ) রবিবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ছাত্র সংগঠনের দিকেই। ওই হামলার আগে-পরে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিও, ছবি ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট বিশ্লেষণ করে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম হামলাকারীদের বিজেপি সমর্থক বলেই চিহ্নিত করছে।
জেএনইউ-তে জখম হওয়া ছাত্রছাত্রী ও অধ্যাপকরা সবাই বিভিন্ন বামপন্থী দলের, তারাও এই হামলার জন্য সরাসরি দায়ী করছেন বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-কে।
জেএনইউ-য়ে নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে দিল্লি ছাড়াও কলকাতা-মুম্বাই-হায়দ্রাবাদ সহ দেশের বিভিন্ন শহরে এদিন প্রতিবাদ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিল্লির জেএনইউ-তে লাঠিসোঁটা, লোহার রড নিয়ে মুখোশধারীরা তান্ডব চালানোর পর এদিন ভোররাত পর্যন্ত দিল্লি পুলিশের সদর দফতরের সামনে চলেছে ছাত্রছাত্রীদের তুমুল প্রতিবাদ।
বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশের প্রচ্ছন্ন মদতেই ক্যাম্পাসে এমন নারকীয় হামলা চালানো সম্ভব হয়েছে। রাজনীতিবিদ যোগেন্দ্র যাদব জেএনইউ মূল গেটের সামনে দাঁড়িয়ে বলছিলেন, ‘পুলিশই এই গুন্ডাদের সুরক্ষা দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকিয়েছে। এতদিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আদর্শগত হামলা চালানো হচ্ছিল, এখন শুরু হয়েছে শারীরিক আঘাত!’
জেএনইউ ছাত্র সমিতির নির্বাচিত সভাপতি ঐশী ঘোষ জানিয়েছেন, ‘সবরমতী টি-পয়েন্টের সামনে গুন্ডারা লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আমার কপাল ফাটিয়ে দিয়েছে। ছাত্ররা তখনই অ্যাম্বুলেন্সে উঠিয়ে হাসপাতালে না-পাঠালে খুব খারাপ কিছু হয়ে যেতো।’
মারধর থেকে বাদ যাননি অধ্যাপকরাও। ওই হামলার প্রত্যক্ষদর্শী, জেএনইউ ছাত্রী প্রিয়াঙ্কা ভারতী বলছিলেন, ‘গুন্ডারা নারী হোস্টেলেও দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ে। তাদের হাতে লাঠি, কুড়াল সবই ছিল- বিশেষ করে আক্রমণের লক্ষ্য করা হয়েছিল মুসলিম ছাত্রদের।’
এদিকে ‘ইউনিটি এগেইন্সট লেফট’, ‘ফ্রেন্ডস অব আরএসএস’ ইত্যাদি নামধারী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে হামলার প্রস্তুতির নানা প্রমাণ মিলেছে, সেগুলো ওই দেশের সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরালও হয়ে উঠেছে।
সে সব প্রমাণ সংকলন করে অনেক সংবাদমাধ্যমই আক্রমণকারীদের বিজেপি সমর্থক বলে চিহ্নিত করছে- যদিও তাদের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি (অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ) আবার পাল্টা দুষছে বামপন্থীদেরই। এবিভিপির সাধারণ সম্পাদক নিধি ত্রিপাঠী দাবি করেছেন, ‘আমাদের সমর্থকরা গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রেশনের শেষ দিনে নাম নথিভুক্ত করাতে গেলে বামপন্থীদে দলবল হোস্টেলে ঢুকে তাদের বেধড়ক পিটিয়েছে। হামলা তারাই চালিয়েছে, যারা চায় না ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরুক।’
এদিন সকালে দিল্লি পুলিশের সদর দফতরের সামনে দাঁড়িয়ে দিল্লি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আভাদেও হাবিব বলছিলেন, ‘গত মাসে জামিয়াতে ঢুকে পুলিশ নির্যাতন চালানোর পর এবার আক্রমণ জেএনইউতে, যা আর মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।’
এদিকে জেএনইউর প্রতি সংহতি জানাতে কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বা হায়দ্রাবাদের ওসমানিয়া ইউনিভার্সিটিও এদিন ছিল প্রতিবাদে উত্তাল। প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে মুম্বাই আইআইটি বা আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটিতেও।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
No comments:
Post a Comment