রক্ত পরীক্ষা করানো বা সেচ্ছায় রক্তদান অনেকের জন্যই সাধারণ ঘটনা। তবে কিছু মানুষের জন্য তা অত্যন্ত কঠিন। ক্ষত থেকে হওয়া তীব্র রক্তক্ষরণ বা সামান্য টিকা দেওয়ার সময় রক্ত দেখে যারা অজ্ঞান হয়ে যান তাদের ক্ষেত্রে সমস্যাটা আসলেই গুরুতর।
চিকিৎসা শাস্ত্রের ভাষায় রক্ত দেখে হওয়া এই প্রতিক্রিয়াকে বলা হয় ‘ভেইজোভেইগল সিনকোপ’ অথবা ‘নিউরোকার্ডিওজেনিক সিনকোপ’।
স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে জানানো হল এই রক্তভীতির কারণ ও করণীয় সম্পর্কে।
রক্তভীতির পরিচিতি: এটি এক ধরনের ‘ফোবিয়া’, যা ‘হিমোফোবিয়া’ নামেও পরিচিত। পরিসংখ্যান বলে, বিশ্বব্যাপি এক থেকে দুই শতাংশ মানুষ এই সমস্যার ভুক্তভোগী। তবে এই ‘ফোবিয়া’য়ের প্রভাব অন্য সকল ‘ফোবিয়া’ থেকে ভিন্ন।
‘হিমোফোবিয়া’তে আক্রান্ত ব্যক্তি রক্ত দেখলে তার হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ আকস্মিকভাবে অনেক নিচে নেমে যায়। রক্তচাপ কমে যাওয়ার কারণে মস্তিষ্কের রক্ত সরবরাহ কমে যায়, ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি জ্ঞান হারান। আকস্মিক রক্তচাপ কমে যাওয়াকে চিকিৎসা শাস্ত্রের ভাষায় বলা হয় ‘ভেইজোভেইগল রেসপন্স’।
‘হিমোফোবিয়া’র অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে আছে দম আটকে যাওয়া, বুক ব্যথা, মাথা ঘোরানো, হৃদস্পন্দন দ্রুত বেড়ে যাওয়া। কেউ কেউ আবার এই সমস্যা উত্তরাধিকার সূত্রেও পেয়ে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগের সম্ভবত জিনগত সম্পর্ক আছে কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তি হয়ত অত্যন্ত স্পর্শকাতর বা আবেগী।
পরিস্থিত কখন গুরুতর: ‘ভেইজোভেইগল সিনকোপ’ একটি সাধারণ সমস্যা যা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। তবে এই রোগের কারণে নিম্ন রক্তচাপ যদি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়ায় তবে দুশ্চিন্তার শুরু হবে সেখান থেকেই। জ্ঞান হারানোও সাধারণ সমস্যা, যা অতিরিক্ত গরমের কারণে কিংবা লম্বা সময় দাঁড়িয়ে থাকলেও মানুষ জ্ঞান হারাতে পারে।
করণীয়: যখনই বুঝবেন যে আপনি জ্ঞান হারাতে যাচ্ছেন তখনই একটি স্থির সমতল দেখে বসে পড়তে হবে। দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য শুয়ে পড়ে পা উপরের দিকে তুলে রাখতে পারেন। রক্ত পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে গেলে শান্ত থাকতে হবে। শরীর শিথিল রাখতে হবে এবং সুঁইয়ের দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকতে হবে। সমস্যা যদি অতিরিক্ত হয় তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সূত্র: বিডিনিউজ 24

No comments:
Post a Comment