প্রজাতন্ত্র দিবসের একদিন আগে গত ২৫ জানুয়ারি ২০২০ সালের পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়। দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মশ্রীতে ভূষিত হয়েছেন হারেকালা হাজ্জাবা নামের এক ব্যক্তি। পেশায় যিনি একজন কমলা বিক্রেতা।
সর্বভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভি অনলাইন প্রতিবেদনে স্থানীয় বন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, গত শনিবার যখন আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মশ্রী পুরস্কারের জন্য মনোনীত কর্ণাটক রাজ্যের হারেকালা হাজ্জাবার নাম ঘোষণা করা হচ্ছিল, তখন তিনি মাথায় ডালাভর্তি কমলা নিয়ে পথে পথে তা ফেরি করে বিক্রি করছিলেন।
কর্ণাটক রাজ্যের নিউপাদাপু গ্রামের বাসিন্দা ৬৪ বছর বয়সী হারেকালা হাজ্জাবার পুঁথিগত কোন বিদ্যা নেই। কিন্তু কমলা বিক্রির আয়ের সামান্য অর্থ সঞ্চয় করে ২০০০ সালে তিনি অধিকারবঞ্চিত শিশুদের জন্য নিজ গ্রামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে তার গ্রামে কোন বিদ্যালয় ছিল না। তার ওই উদ্যোগকেই পুরস্কৃত করা হয়েছে।
সর্বভারতীয় দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমস তাদের অনলাইন প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আজ থেকে ২০ বছর আগে হাজ্জাবা ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর দিন দিন তাতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বঞ্চিত শিশুদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে হাজ্জাবা বিদ্যালয়টি সম্প্রসারণের জন্য নিজের অল্প সঞ্চয়ের সঙ্গে ঋণ নিয়ে জমিও কেনেন।
বন কর্মকর্তা পারভীন কাসওয়ান ট্যুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘কর্তৃপক্ষ যখন পদ্মশ্রী পুরস্কারের জন্য হাজ্জাবার নাম ঘোষণা করছিল, তখন তিনি রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে। দক্ষিণ কন্নাড্ডার বাসিন্দা এই ফল বিক্রেতা এক দশক ধরে তার গ্রামের এক মসজিদে দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছেন। যার সবটাই করেছেন নিজের সঞ্চয় দিয়ে।’
দেশের ৭১তম প্রজাতন্ত্র দিবসে গত শনিবার সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এবার সাতজনকে পদ্মবিভূষণ, ১৬ জনকে পদ্মভূষণ ও ১১৮ জনকে পদ্মশ্রী সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক ট্যুইট বার্তায় পুরস্কারপ্রাপ্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
সূত্র: জাগো নিউজ24

No comments:
Post a Comment