নিজেস্ব প্রতিনিধি: ফের তৃণমূলের মুরারই ১ নম্বর ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি অভিযোগ তুলে হ্যান্ডবিল ছড়াল মুরারইয়ে। এবার ব্লক সভাপতির সঙ্গে নাম জড়িয়েছে জেলা পরিষদের দুই কর্মাধ্যক্ষেরও। যদিও তারা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। এর আগেও তৃণমূলের মুরারই ১ নম্বর ব্লক সভাপতি বিনয় ঘোষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির হ্যান্ডবিল ছড়িয়েছিল মুরারইয়ে। সে সময় সিসিটিভি দেখে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। এবার অনুব্রত মণ্ডলকে উদ্দেশ্য করে লেখা ওই হ্যান্ডবিলে বলা হয়েছে ব্লক সভাপতি বিনয় ঘোষ প্রতিটি পঞ্চায়েত থেকে ২ থেকে ৪ শতাংশ, পঞ্চায়েত সমিতি থেকে ৩ শতাংশ, শৌচালয় নির্মাণ থেকে ৫ শতাংশ কাটমানি নিচ্ছেন। এমনকি বেশ কিছু এলাকায় শৌচালয় নির্মাণ না করেই টাকা তোলা হয়েছে।
তার অর্ধেক টাকা কাটমানি খাচ্ছেন বিনয় ঘোষ। জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ বাবলু ভকতের যোগসাজশ করে শৌচাগার নির্মাণের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া পলসা ও ডুমুরগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধেও স্বজনপোষণের অভিযোগ তোলা হয়েছে হ্যান্ডবিলে। হ্যান্ডবিলের কপি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সি এবং প্রশান্ত কিশোরের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে হ্যান্ডবিলে উল্লেখ রয়েছে। শুধু আর্থিক দুর্নীতিই নয়, বিনয়বাবুর চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে হ্যান্ডবিলে। লেখা হয়েছে চাকরি দেওয়া নামে তিনি মেয়েদের সঙ্গে মেলামেশা করেন। লোকসভা নির্বাচনে বিনয়বাবু দলবিরোধী কাজ করেছেন বলেও হ্যান্ডবিলে ছাপান হয়েছে। যদিও বিনয়বাবু বলেন, “আমি দলটাকে সঠিক দিশা দেখাতে পেরেছি বলে কিছু মানুষের এখন গাত্রদাহ হচ্ছে। তারাই এসব করেছে।
এর আগেও একবার করেছিল। সে সময় পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছি। এবারও থানায় অভিযোগ জানাব”। মুরারইয়ের বিধায়ক আব্দুর রহমান বলেন, “অভিযোগ ভিত্তিহীন। বিনয়বাবু সঠিকভাবে দল পরিচালনা করছেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে। আর দুর্নীতি করে থাকলে আমাদের সভায় বলবে”। বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, “গোটা দলটাই দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছে। এখন কেউ কেউ লুকিয়ে বলার সাহস দেখাচ্ছে। আমি মনে করি তৃণমূল দলটা সার্কাসের দল। এদের কখন ভালো সময় আবার কখন খারাপ সময় যায়। দুর্নীতিই দলকে শেষ করবে”।
No comments:
Post a Comment