নিজেস্ব প্রতিনিধি: সাগরদিঘির আতঙ্কের ছায়া কাটতে না কাটতেই কাজ করতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু এক শ্রমিকের। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের সদাইপুর থানার কুইঠা গ্রামে। মৃত যুবকের দেহ রবিবার গ্রামে ফিরে আসে। ঘটনার জেরে এলাকায় শোকের ছায়া। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত শ্রমিক হলেন আকেবর আলি (২৫ বছর)।
তিনি মহারাষ্ট্রের পুনাতে টিউবয়েলের বোরিং এর কাজ করতেন। পরিবার ও প্রতিবেশীদের দাবি গত বৃহস্পতিবার সে কাজের জায়গাতেই মারা যান। কিন্তু কিভাবে মারা গেল বা মারা যাওয়ার কারণ কিছুই জানা যায়নি ওই যুবকের কর্মরত সংস্থা মারফত। কুইঠা গ্রামের অন্যান্য যুবক যারা ওই এলাকায় কাজ করতেন তাদের মাধ্যমে গত শুক্রবার পরিবার খবর পান এবং তাদেরই উদ্যোগে মৃতদেহ গ্রামের ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়। ওই যুবক পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন। বাড়িতে বিধবা মা এবং বিবাহযোগ্য দুই বোন রয়েছে। পরিবারের ছেলের অকাল মৃত্যুতে কার্যত মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে তাদের। পরবর্তী সময়ে দিন গুজরান কিভাবে হবে সেই নিয়ে চিন্তিত তারা। পাশাপাশি যে সংস্থাই ওই যুবক কাজ করতো তাদের বিরুদ্ধে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কিভাবে মারা গেল কেনই বা মারা গেল কোন কিছুই ওই সংস্থার পক্ষ থেকে পরিবারকে না জানানোই সন্দেহ শুরু হয়েছে সকলের।
হয় দুর্ঘটনায় মৃত্যু কিংবা খুন করা হয়ে থাকতে পারে ওই যুবককে বলে পরিবারের দাবি। কয়েকদিন আগে কাশ্মীরে শ্রমিকের কাজ করতে যাওয়া সাগরদিঘির কয়েকজনকে নৃশংসভাবে খুন করে পাক মদদপুষ্ট জঙ্গিরা। সেই আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতেই আবার এই মৃত্যু ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে। ইতিমধ্যেই এলাকার অনেক পরিবারের সদস্য যারা ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়েছেন তাদেরকে বাড়িতে ফিরে আসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। মৃত যুবকের আত্মীয় সাধু জামান বলেন," কিভাবে মারা গেল সে নিয়ে আমরা পুরো অন্ধকারে। যেখানে কাজ করতো সেই সংস্থার পক্ষ থেকে আমাদেরকে জানানো হয়নি। বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাইছি পাশাপাশি পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের দাবি করছি প্রশাসনের কাছে। ভিন রাজ্যে যে সমস্ত পরিবারের ছেলেরা কাজ করতে গিয়েছে সেই পরিবার রীতিমত আতঙ্কে বর্তমানে। তারাও চাইছে গ্রামেই ফিরুক তাদের বাড়ির ছেলে"।
pb
No comments:
Post a Comment