নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাসর রাতে বৌ-এর সাথে শারীরিক সম্পর্কে যাওয়ার আগে তার সাথে এ বিষয়ে কীভাবে কথা বলবো?
আজকালকার আধুনিক প্রজন্মের কাছে শুনতে যতই হাস্যকর মনে হোক না কেন, বিয়ের প্রথম রাত বা ফুলশয্যার রাতটি যে কোন দম্পতির জীবনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ রাত বলে মনে করা যেতে পারে - মানবিক ভাবে ও বৈজ্ঞানিক ভাবে। আর এই সুন্দর রাতটিতেই নিজেদের বন্ধনকে মজবুত করে নিতে হয় চিরকালের জন্য। চলুন, জেনে নিই এমন কয়েকটি জিনিস যা বিয়ের প্রথম রাতে ভুলে গেলে চলবে না এবং এগুলো মনে রাখলে আপনার বৈবাহিক জীবন সুখের হতে পারে।
বিয়ের প্রথম রাতের সাথে যৌনতা বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তবে হ্যাঁ, এই যৌনতার জন্য কোন মানসিক চাপ নেবার দরকার নেই, নেবেন না আদপেই। এমন নয় যে যৌন মিলন সেই রাতে হতেই হবে। বিয়ের অনুষ্ঠানগুলো টানা থাকার কারণে বর ও বউ উভয়েই ক্লান্ত হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। এবং সেই ক্লান্তি এসে থাকলে বরং বিশ্রাম নিন। নিজেদের প্রথম যৌন অভিজ্ঞতাটি সুন্দর করে তুলতে সহায়তা হবে। অনেকে নতুন স্ত্রীকে ফোর্স করেন। আমি সেই সমস্ত স্বামীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই "যৌনতা বা সেক্সচুয়াল ইন্টারকোর্স এক অনন্য অনুভূতি আর তাতে যদি ভালোবাসা মিশ্রিত হয়, তাহলে সেটা স্বর্গসুখের চেয়েও সুখকর লাগতে পারে" আর তাই জোর করে বা বলপ্রয়োগ করে একের ওপর অন্যের আধিপত্য করতে চাইবেন না। নিজের স্ত্রীয়ের মানবিক শারীরিক চাহিদাটা বুঝুন। তাকে সাহায্য করুন।
প্রথম রাত ও প্রথম যৌন মিলনের ব্যাপারটি নিয়ে নারীদের মনে অনেক ধরণের ভীতি কাজ করে। নারীরাও যদি খুব বেশি নার্ভাস বোধ করেন বা খুব অস্বস্তি লাগে, তাহলে স্বামী উদ্যোগী হলে তাকে ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলুন। তিনি এখন আপনার জীবন সঙ্গী। আপনার সকল সমস্যা তাঁকেই বুঝতে হবে। এবং স্বামী বলে চুপ থাকবেন, সয়ে যাবেন বা স্ত্রী বলে কোন মতামত থাকবে না, এটা হতে দেবেন না। এটা হলে কিন্তু দাম্পত্য তিক্ত হতে বাধ্য।
স্বামীরাও যৌন মিলনের জন্য তাড়াহুড়া করবেন না। এতে আপনার সম্মান ক্ষুন্ন হবে এবং স্ত্রী ভেবে বসতেই পারেন যে আপনি কেবল যৌন মিলনেই আগ্রহী, সুখ নাই বা পেলেন। স্ত্রী এখন আপনার সহধর্মিনী, তাকে সঠিক সম্মানটা দিন। প্রথম রাতে স্ত্রীর চোখে নিজেকে একজন মার্জিত পুরুষ প্রমাণ করুন তাঁর ইচ্ছার মূল্য দিয়ে।
বিয়ের প্রথম রাতটি আর কখনোই ফিরে আসবে না জীবনে। তাই এই রাতের জন্য কিছু বিশেষ রোমান্টিক প্ল্যান অবশ্যই রাখুন। নিদেন পক্ষে কিছু উপহার কিনে রাখুন সঙ্গীর জন্য, রোমান্টিক কবিতা মুখস্ত করে রাখতে পারেন, ঘরে গান শোনার ব্যবস্থা করতে পারেন। খুব ভালো হয় যদি কোন ভালো রোমান্টিক ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক চালু রাখেন। ডুম আলোতে রোমান্স ভালো হয়। ক্যান্ডেল লাইট বা ফ্লেভার্ড (রোজ/স্ট্রবেরি) আলোর ব্যবস্থা করতে পারেন।
আমার মনে হয়, বিয়ের রাতেই হানিমুনের জন্য রওনা হওয়া একটা বাজে প্ল্যান। আনন্দ তো হবেই না, বরং অযথা বাড়বে ক্লান্তি। তাই পরে প্ল্যান করে রাখুন। অষ্টমঙ্গলা বা দ্বিরাগমনের পরে কিছুটা রেস্ট নিয়ে করতেই পারেন। হুড়োহুড়ি করলে খুব চটজলদি বিয়ের স্বাদ মাটিতে মিশে যায়।
বিয়ে প্রেমের হোক বা পারিবারিক, বিয়ের রাতে অবশ্যই সঙ্গীকে জানান যে তাঁকে আপনি কীভাবে ভালোবেসে ফেলেছেন এবং এখন থেকে আপনার জীবন কেবল তাঁকে ঘিরেই। মনে রাখবেন আপনারা দুজনেই কিন্তু দুজনের কাছে নতুন স্বামী স্ত্রী, তাই প্রেম করার চাহিদাটাকে গভীরে নিয়ে যান। সেটাকে ক্ষনিকের শরীরী লোভে হারিয়ে ফেলবেন না। একটা জিনিস মনে রাখবেন, এটাই আপনাদের নতুন জীবনের প্রথম পর্ব। তাই এই রাতে এমন কিছু বলবেন না বা করবেন না, যাতে জীবনের সূচনা পর্বেই সব গড়বর হয়ে যায়।
সর্বোপরি পারলে কন্ডোম ব্যবহার করুন। মহিলারা ডটেড কন্ডোম ভালোবাসেন। আর কন্ডোম ভালোবাসা সৃষ্টি করতে পারেনা, এটা বহু পুরোনো একটা আরবান মিথ। এর থেকেও পারলে বেরিয়ে আসবেন। অনেক স্ত্রী বা পুরুষ দাম্পত্যের শুরুর রাতেই ফ্যামিলি প্ল্যানিং করতে চান না, সময় নিতে চান। তাকে সেই সময়টা পারলে দিন।
মনে রাখবেন, স্বামী বা স্ত্রীর অতীত প্রেম নিয়ে জেরা করার কুৎসিত কাজটিও বিয়ের রাতে মোটেও করতে যাবেন না। যা গিয়েছে, তা গিয়েছে। সেটার জন্য নিজেদের জীবনের সবচাইতে সুন্দর সময়টিকে নষ্ট করবেন না ভুলেও।
আর হ্যাঁ, পরস্পরের পরিবারকে যে দুজনের খুবই ভালো লাগবে এমন কোন শর্ত নেই। কিন্তু সেটা নিয়েই বিয়ের রাতে আলোচনা করার মানে নেই। অনুষ্ঠানে কী হলো বা হলো না, কে কী উপহার দিল, কে কী করেছে এগুলো নিয়ে কথা বলার জন্য বাকি জীবন আছে।
মোট কথা এই যে, বিয়ের প্রথম রাতটি কেবলই প্রেমের। পরস্পরকে জানার, বোঝার ও ভালোবাসার জন্য। এই রাতটি কিছুতেই হেলায় হারাবেন না। দাম্পত্য প্রেম জিইয়ে রাখুন। জীবনে যৌনতা উপভোগ করুন। সেটাকে প্রয়োজন বানাবেন না। তাহলে সম্পর্ক ফ্রোজেন হতে বাধ্য।
ভালো থাকুন। ভালোবাসুন। বৈবাহিক সম্পর্ক উপভোগ করুন।
পি/ব
No comments:
Post a Comment