দেবশ্রী মজুমদার, রামপুরহাট, ১২ অক্টোবর: সাধক বামাখ্যাপা মলুটির মা মৌলিক্ষাকে বলতেন বড় মা। আর তারাপীঠের মা তারা ছোট মা। সেই রীতি মেনে শুক্ল চতুর্দশীতে মা মৌলিক্ষার পুজো হয় আগে। তার পরেই পুজো পান মা তারা। বড় মা অরথা মৌলিক্ষা অবস্থান করছেন বীরভূম সীমান্তে ঝাড়খণ্ডের মলুটি গ্রামে। রাজা রাখর চন্দ্র ওই গ্রামে ছিলেন বলে জানা যায়। এই গ্রামে গুপ্তকাশিও বলা হয়। কারণ এই গ্রামে একাধিক সিব মন্দির রয়েছে। যা ভারতবর্ষের অন্য কোথাও নেই। কথিত আছে মা মৌলিক্ষা সিংহবাহিনী দুর্গা।
রাজা রাখর চন্দ্রের স্বপ্নাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠিত দেবী। গৌতম বুদ্ধের সময়ে মায়ের এই মূর্তি আবির্ভাব হয়েছিল। সন্যাস এবং রাজারা প্রথম মায়ের দর্শন পান। এই চতুর্দশীর দিনে আগে মা মৌলিক্ষার পুজো হয়, তারপর মা তারার পুজো হয়। দ্বারকা নদীর এপারে রাজাদের পুজো হয় ওপারে নাটোরের রানীর পুজো হয়। মন্দিরের সেবাইত কানাইলালা চট্টোপাধ্যায় জানান, একটা সময় ছিল যখন রাজারা তারাপীঠে মা তারার পুজো দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু নাটোরের রানীর নায়েবরা রাজাদের দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখেছিল।
সে সময় রাজারা মনে দুঃখে ফিরে এসে নদীর এপারে অর্থাৎ মলুটিতে ঘট প্রতিস্থাপন করে পুজো করেছিলেন। পুজো সমাপ্ত হওয়ার পর মা তারা নাটোরের রানীকে মা তারা স্বপ্নাদেশ দিয়ে বলেন এখনো আমার পুজো হয়নি। রানী নায়েবদের কাছে জানতে চান কেন এখন পুজো হয়নি। নায়েবরা রানীকে রাজাদের কথা বলেছিলেন। এরপরেই রানী নায়েবদের নির্দেশ দেন রাজাদের ফিরিয়ে এনে পুজো করানোর।
সেই মতো নায়েবরা রাজাদের অনুনয় বিনয় করে ফিরিয়ে এনে পুজোর ব্যবস্থা করেন। সেই থেকে বছরের এই একদিন মা তারাকে পশ্চিমমুখে বসানো হয়। আর বামাখ্যাপার দুই জায়গাতেই অবাধ বিচরণ ছিল। তিনিই বলেছিলেন মা তারা ছোট মা। মৌলিক্ষা বড় মা। সেই থেকেই মা মৌলিক্ষাকে বড় মা হিসাবেই মেনে আসে সকলে। চতুর্দশী উপলক্ষে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ফলের ভোগ দিয়ে মায়ের পুজো হয়। তবে রাত্রে অন্নের ভোগ হয়। কেউ কেউ এদিন মনস্কামনা পূরণ করতে যজ্ঞ করান। সেই রীতি আজও চলে আসছে।
পি/ব
No comments:
Post a Comment