সুদেষ্ণা গোস্বামীঃ হিন্দু পুরাণ এর বর্ণনা অনুযায়ী স্বর্গে একটি কল্প বৃক্ষের কল্পনা করা হয়েছে ।যে বৃক্ষের কাছে যে যা চাইবে সেতাই লাভ করতে পারে অনায়াসে। এই কল্পতরু কল্পনার মধ্যে মানুষের চাওয়া, পাওয়া, আকাঙ্ক্ষাকে মূর্ত করে তোলে। বুঝতেই পারছেন কি নিয়ে কথা বলতে চাইছি !ঠিকই বুঝতে পেরেছেন বলছি বৌদ্ধ ধর্মেরই একটি চিন্তা ভাবনা নিয়ে কথা।
সাধারণত আশ্বিন বা কার্তিক মাসের মধ্যেই বাঙালি বৌদ্ধগণ কল্পতরু উৎসব পালন করেন মঞ্চের ওপর সজ্জিত একটি চারাগাছ রোপন করে তার ডালে নানাবিধ ব্যবহারিক সামগ্রী ঝুলিয়ে রাখেন যেমন কাপড়, পেন্সিল ,খাতা ও নানা উপহার সামগ্রী। এই সমস্ত গাছটিকে সাজানো হয় সুন্দর আলোকসজ্জায়। বুদ্ধদেবের কল্প বৃক্ষের উৎসব অনেকটা খ্রিস্টানদের ক্রিসমাট্রির কথা মনে করিয়ে দেয়।
আবার আমাদের কল্পতরু উৎসব এর সাথে এর নামের বেশ মিল পাওয়া যায়। আশ্বিন কার্তিক মাস বাঙালি হিন্দুদের মতোই বৌদ্ধদের কাছেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা সময় তখন তারা 'কঠিন চীবর দান 'ব্রত পালন করেন। আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা থেকে কার্তিক পূর্ণিমা পর্যন্ত এই উৎসব পালিত হয়। চীবর কথার মানে হলো চাদর ।বৌদ্ধ ভিক্ষুদের প্রতি বৎসর এই সময় পরিধেয় বস্ত্র বা চাদর দান করা হয় এই অনুষ্ঠানকে বলা হয় কঠিন চীবর দান।
কারণ ভিক্ষুক জীবনের যে কষ্ট বা কঠীনতা তার জন্যই এরকম নামকরণ কঠিন চীবর। এইভাবে বৌদ্ধদের নানান উৎসব হিন্দুদের উৎসবের সাথে মিলেমিশে তৈরি হয়ে গেছে নানা উৎসবের সমাহার। কারণ হিন্দুরা যখন যেমন উৎসব পালন করেন যেমন চৈত্রসংক্রান্তি বা নববর্ষের উৎসব ,তখন বৌদ্ধ দের মধ্যেও কিছু কিছু এমন উৎসব পালিত হয় যার সাথে বেশ মিল পাওয়া যায় বাঙালি হিন্দু উৎসবের।
পি/ব
No comments:
Post a Comment