সুদেষ্ণা গোস্বামী: আজ বলবো উত্তর কলকাতার মল্লিক বাড়ির পুজো নিয়ে।আড়াইশো বছর এর জমিদারীতে ২৩৫ বছরের পুরনো এই পুজো। তবুও নড়চড় হয়নি কোন নিয়ম নীতির। এখানে মা দুর্গার রূপ একটু অন্য। ঠাকুরদালানে গেলে দেখতে পাবেন মায়ের মূর্তি করা হচ্ছে সেখানে মা শিবের কোলে অধিষ্ঠিত।
ঠাকুরের দু'ধারে জয়া ও বিজয়া মায়ের সখি হিসেবে পূজিত হন। এই বাড়ির কর্তা মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন এরকম মূর্তি গড়ার। বড় বড় খিলান, করিবর্গা ও কড়ি কাঠের গন্ধ এবং ফাঁকফোকর দিয়ে পায়রার চাহনির মধ্যে দিয়েই মৃন্ময়ী মা তৈরি হচ্ছে।
শ্রাবণ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তে কাঠামো পুজোর পর শুরু হয়ে যায় পুজোর প্রস্তুতি। বাড়ির বড় গিন্নি দুই হাতে দুটো এবং মাথায় ধুনো পুড়িয়ে ঐতিহ্য মেনে ঠাকুরকে অর্পণ করেন। নবমীর দিন মাকে এক মন চিনি দেওয়া হয় ভোগ এবং দশমীর দিন মা চলে গেলে রাত্রে খাওয়া হয় মাছ ভাত।
পুজোর সময় যখন এই বাড়িতে ঢুকবেন, দেখতে পাবেন বাড়ির ছোট থেকে বড় সব পুরুষদের পরনে ধুতি, পাঞ্জাবি ও চেলি এবং মহিলাদের গায়ে লাল পেড়ে সাদা শাড়ি ,পায়ে মল এবং নাকে নথ ঠিক যেন স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে সব উমারা।
পি/ব
No comments:
Post a Comment