দেবশ্রী মজুমদারঃ সপ্তম পে কমিশনের বকেয়া টাকা না পেয়ে বিশ্বভারতীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিল বিশ্বভারতীর কর্মীসভা। এদিন বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে কর্মীসভা। আন্দোলনের জেরে শিকেয় উঠেছে বিশ্বভারতীর সমস্ত কাজকর্ম। যদিও এব্যাপারে, কর্মীসভার দাবি, তাঁরা শান্তিপূর্ণ অবস্থানে নেমেছেন। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ বার বার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার জন্য অনন্যোপায় হয়েই তাঁরা সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। ইউ জি সি প্রদেয় বকেয়া প্রাপ্য পেলেই তাঁরা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন।
অন্যদিকে, বিশ্বভারতীর অধ্যাপক সভা ও পাশাপাশি ভিবিইউফা যৌথভাবে উপাচার্যের সাথে বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার অনুরোধ করে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে।সপ্তম পে কমিশন চালু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বভারতীর কর্মীদের বকেয়া পাওনা থেকে গিয়েছে। জানা গেছে, বিশ্বভারতীতে প্রতি মাসে সমস্ত কর্মী, অধ্যাপক, আধিকারিকদের বেতন দিতে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়। আগস্ট মাসে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সম্পূর্ণ টাকা না পাঠানোর ফলে অন্য খাতের টাকা থেকে বেতন দিতে হয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে। সেই নিয়েও এক প্রস্থ অভিযোগ ওঠে।
কর্মীদের অভিযোগ, ২০১৬ সাল থেকে লাগু হওয়া সপ্তম পে কমিশনের বকেয়া টাকা নিয়ে একাধিকবার আবেদন নিবেদন করে কোন লাভ হয় নি।যদিও, বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এব্যাপারে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলে সুনির্দিষ্ট দাবি গুলি জানাবে ও সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।
কর্মিসভার সম্পাদক বিদ্যুৎ সরকার বলেন,সপ্তম পে কমিশনের বকেয়া অন্যান্য কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া হলেও, বিশ্বভারতীর ক্ষেত্রে তা হয় নি। ২০১৬ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে চালু হলেও, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে তা প্রদান করা হয় নি। এর আগে জুন মাসে দিয়ে দেওয়া হবে বলা হয়। পরে অগাস্ট মাসে দেওয়া হবে বলা হয়, সেটাও হয় নি। তাই বাধ্য হয়ে অনির্দিষ্ট কালের জন্য শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থানের ডাক দিয়েছি। প্রতিদিন সকাল সাড়ে নটা থেকে সন্ধ্যে ছয়টা পর্যন্ত পেন ডাউন থাকবে। এটি মূল দাবি হলেও, এছাড়াও, কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে, হেনস্থা করা হচ্ছে। সে ব্যাপারেও আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তবে ২ সেপ্টেম্বর ভি বি ই উ ফা ( বিশ্বভারতী ফ্যাকাল্টি এ্যসোসিয়েশন), অধ্যাপক সভা, তফশিলী জাতি উপজাতি ওয়েলফেয়ার এ্যসোসিয়েশন বিশ্বভারতীর উপাচার্যের সাথে বৈঠক করেন। এব্যাপারে ভিবিইউফার তরফে বিকাশ চন্দ্র গুপ্তা, অধ্যাপক সভার সহ সভাপতি কিশোর ভট্টাচার্য, সম্পাদক গৌতম সাহা, এস সি এসটি ওয়েল ফেয়ার এ্যসসিয়েশনের সভাপতি সুকুমার পাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, উপাচার্যের সাথে এব্যাপারে তাঁদের বৈঠক হয়েছে। উপাচার্য সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন। পাশাপাশি, ওই বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক, কর্মী ও পড়ুয়াদের বিশ্বভারতীতে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য ভিবিইউফা ও কর্মীসভার তরফে যৌথভাবে আবেদন জানানো হয়।
পি/ব
No comments:
Post a Comment