সুদেষ্ণা গোস্বামী: উত্তর কলকাতার বনেদি বাড়ি গুলোর মধ্যে দা বাড়ি অন্যতম। বৈঠকখানার ঘর থেকে ঠাকুরদালান এবং সেখানকার আসবাবপত্র সবকিছুতেই পুরনো আমলের সুবাস রয়ে গেছে। কথিত আছে মা নাকি শ্বশুরবাড়ি থেকে যখন বাপের বাড়ি ফিরে আসেন তখন এই বাড়িতে তিনি অলংকার পরতে পছন্দ করেন। এখানকার পূর্বপুরুষ শ্রীকৃষ্ণ দা মহাশয় গয়না পরতে ভালবাসতেন।
যেমন তিনি নিজেও গয়না পরতে ভালবাস তেন তেমন তিনি মায়ের জন্য জার্মান ,প্যারিস এবং বিদেশ থেকে অনেক গয়না নিয়ে এসেছিলেন মাকে পড়ানোর জন্য। তাই মায়ের শরীর এখানে আপাদমস্তক ভূষিত থাকে প্রচুর গয়নায়। শুধু তাই নয় মায়ের ভেলভেটের শাড়িতেও আছে সোনা,রূপো জরির কাজ।শুধুমাএ মাই যে এই রকম শাড়ি পড়ে তা নয় ।কার্তিক, লক্ষ্মী ,গণেশ সকলেরই এরকম বস্ত্র রাখা আছে সিন্দুকে।
বাইরে থেকে কোন খাবার এখানে আসে না মায়ের জন্য। এখানকার গৃহিণীরা পুরোপুরি নিজেদের হাতে তৈরি করেন মায়ের ভোগ। ষষ্ঠী থেকে দশমী খইয়ের মুড়কি, মিষ্টি, লাড্ডু ঠাকুরের ভোগের সাথে থাকবেই থাকবে। ঠাকুরদালানে মায়ের যে কাঠামো তৈরি হয় সেটি হয় সুন্দরবন থেকে আসা গরান কাঠে।
এখানকার আরো একটি বিশেষত্ব হলো সন্ধি পুজোতে ঠাকুরদালান ধোঁয়া থেকে নৈবেদ্য সমস্ত কাজ করেন পুরুষেরা। মহিলারা সেই সময় তাদের সাহায্য করেন মাত্র। এসব কিছুর মধ্যে একটা অদ্ভুত আনন্দ ,চাওয়া-পাওয়া লুকিয়ে আছে তাই নয় কি?
পি/ব
No comments:
Post a Comment