নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পুতিন-মোদির বৈঠকে বড়সড় প্রাপ্তি ভারতের, কাশ্মীর নিয়ে ভারতকে সমর্থন, তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় না, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষায় ২৫ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হল দুই দেশের। রাশিয়ার শ্রেষ্ঠ নাগরিক সম্মাননা দিল মোদিকে। এছাড়াও বড় প্রাপ্তি রাশিয়ার সঙ্গে ২৫টি বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হল ভারতের। চেন্নাই থেকে ভ্লাডিবসটক জলপথ চুক্তি বানিজ্যের ক্ষেত্রে দিগন্ত খুলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনের ফাঁকে বুধবার বৈঠক সারেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে। সেখানে তাঁদের মধ্যে বিনিয়োগ– বাণিজ্য– তেল ও গ্যাস– নিউক্লিয়ার শক্তি– প্রতিরক্ষা– মহাকাশ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে চুক্তি হয়। আলোচনায় উঠে আসে কুন্দনকুলাম নিউক্লিয়ার প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। রাশিয়ার পূর্বদিকে অবস্থিত ভ্লাডিবাস্টক থেকে চেন্নাই পর্যন্ত সমুদ্রপথে যোগাযোগের নতুন রুট নিয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও হয়।
মহাকাশ নিয়ে ভারতের গগনায়ন প্রকল্পে রাশিয়া সাহায্য করবে বলে জানা গেছে। এই প্রকল্পে রাশিয়া ভারতীয় মহাকাশচারীদের প্রশিক্ষণ দেবে বলে কথা হয়েছে। প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে একে-২০৩ রাইফেল তৈরিতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। অডিয়ো-ভিজুয়াল প্রোডাকশন নিয়েও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন– পরিবহনের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার– তেল ও গ্যাস সেক্টরে সহযোগিতা প্রসার– প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ব্যাপারেও মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি রয়েছে ২০২০ পর্যন্ত, সেটার মেয়াদ আরও ১০ বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে রাশিয়া।
এছাড়াও ভারতের বড় প্রাপ্তি কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপকে সমর্থন জানিয়ে পুতিন বলেন, এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সংবিধান মোতাবেক তারা যা করার করেছে। এব্যাপারে তৃতীয় পক্ষের নাক গলানো বা মধ্যস্থতায় তাদের সায় নেই। এদিনের বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে মোদি আরও বলেন– দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক দেশ-দু’টির রাজধানীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না– মানুষের মধ্যেও সেই ব্যাপারটি ছড়িয়ে পড়বে। আমাদের মধ্যে ভিন্ন মাত্রার একটি রসায়ন কাজ করে। দুই দেশের মধ্যে এটি ২০তম বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। ২০০১ সালে এটি শুরু হয়।
তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে গুজরাতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদি রাশিয়ায় এই বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। এদিন মোদি সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন এবং ভÏদিভস্তকে প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সফর করতে পারার জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদ নিয়ে রাশিয়ার সমর্থন চেয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু রাশিয়া জানিয়ে দিয়েছে– ভারত যা করেছে সাংবিধানিক কাঠামো মেনে করেছে। এ বিষয়ে আমরা ভারতের পাশেই থাকব। এই ইস্যুতে নাম না করে এদিনের বৈঠক থেকে পাকিস্তানকে বিঁধেছেন প্রধানমন্ত্রী।
ভারত ও রাশিয়ার সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মোদি বলেন– আমরা দুই দেশই কারও অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলাই না। এই সফরেই মোদিকে রাশিয়ার সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অব সেন্ট অ্যান্ড্র$ দি অ্যাপোস্টেল’ প্রদান করা হবে। দুই দেশের সম্পর্ককে একটি অন্য মাত্রা দিয়েছেন মোদি– তারই পুরস্কারস্বর*প এই সম্মাননা বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্টÉপ্রধান পুতিন। মোদি এই সম্মাননার জন্য রাশিয়ার জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন– ভারত ও রাশিয়ার এই বন্ধন বিশ্বাস ও সহযোগিতার উপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী রাশিয়াকে ভারতের ‘বিশ্বাসী বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেন। পুতিনও এদিন তাঁর বক্তব্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার কথা বলেন। বিগত বর্ষগুলিতে রাশিয়া ও ভারত বাণিজ্যের ব্যাপারে কীভাবে সাহায্য করেছে– তার খতিয়ান দেন বক্তব্যে। উল্লেখ্য– গত বছরে অর্থাৎ ২০১৮ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১১১০ কোটি ডলার। সেই দিক দিয়ে নতুন চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
পি/ব
No comments:
Post a Comment