নিজস্ব প্রতিনিধিঃ যদি বলি হিন্দুরা কারবালা প্রান্তরে যুদ্ধে সামিল হয়েছিলেন। ধীরে সে ঝটকা জোরসে লাগবে একদম বুকের বাম দিকে। এবার যদি বলি, কারবালা ন্যায় যুদ্ধে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) -র দৌহিত্র ইমাম হোসেনের হয়ে এজিদের বিরুদ্ধে এই ব্রাহ্মণরা অস্ত্র ধারণ করেছিলেন। হার্ট বিট বন্ধ হয়ে যাবে। হওয়ারই কথা! এই ঘটনাটি জানার আচম্বিতে আমারও ওই দশা হয়েছিল। হবেই না বা কেন?
১) কতদূরে কারবালা।
২) হিন্দুরা কারবালায় যুদ্ধ করবে ইমাম হোসেনের পক্ষে। তাও আবার ব্রাহ্মণ? অনেকেই বলে ফেলেছেন হজম হলো না দাদা! আর আপনারও মনে হয় কাল ডিনারটা হজম হয় নি।
সবিনয়ে বলি, আমার স্ত্রী একজন খাস বাঙালের মেয়ে। খুব ভালো রাঁধেন। আর আমি তৃপ্তি করে খায়। হজমও হয়!
এবার আসি আসল ঘটনায়। পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিম সীমান্ত এলাকায় মোহায়েল সম্প্রদায়ের উচ্চ বর্ণের অর্থাৎ ব্রাহ্মণের বাস। তাঁদের মধ্যে রহাব সিং দত তাঁর ছেলেদের নিয়ে ইরান হয়ে কারবালা প্রান্তরে ইমাম হোসেনের পক্ষে যুদ্ধ করেন। কিন্তু কেন? ইমাম হোসেনের অনুগামীরা পার্শ্ববর্তী দেশেও উপজাতি সহ অনেককেই চিঠি লেখেন। তাঁদের অনেকের সঙ্গে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) - র সুসম্পর্ক ছিল। সেই চিঠি পৌঁছায় পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিম সীমান্ত এলাকায় মোহায়েল ব্রাহ্মণদের কাছে।
এই যুদ্ধের পরিণাম কি হতে পারে জেনেও, ৬৮০ এডিতে ইমাম হোসেনের পক্ষে যোগদান করেন। এই মোহায়েল ব্রাহ্মণদের একজন বংশধর সুনীতা জিনগ্রান। তিনি বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষ ইমাম হোসেনের পক্ষে যুদ্ধ করেন। কারণ, তিনি এজিদের অত্যাচার অন্যায়ের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেছিলেন। তিনি প্রকৃত ইসলামের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন। রহাব সিং দত যুদ্ধে শহীদ না হলেও, তাঁর সাত ছেলে নিহত হন, ইমাম হোসেনের মৃত্যুর ঠিক পরেই। যুদ্ধের পর, হোসেনের বোন জয়নবের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়।
তাকে সমস্ত ঘটনার বর্ণনা করেন। সব শুনে চোখের জল থামতে পারেন নি জয়নব। তারপর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) র পরিবার রহাব সিং দতকে বলেন, আপনি আজ থেকে শুধু ব্রাহ্মণ নন। আপনি হুসেইনি ব্রাহ্মণ। এই হুসেইনি ব্রাহ্মণরা প্রাক স্বাধীনতার সময় বেড়ে ওঠেন। এদের পদবী সাধারণত হয় মোহন, বালি, ছিবার,দত, বক্সি, লভ, বিমওয়াল, জিনগ্রাম। দেশভাগের পর তারা ভারতে চলে আসে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এই ঘটনা বিশ্বাস না করলেও, লাহোরের মৌলানা হাসান জাফর নকভি বলেন, কারবালা যুদ্ধে মোহায়েল ব্রাহ্মণরা অংশগ্রহণ করেন।
ইমাম হোসেনের বাবা খালিফ আলির সাথে এই মোহায়েলদের সম্পর্ক ভালো ছিল। মোদ্দাকথা, কুরুক্ষেত্র বা কারবালা! ন্যায় যুদ্ধে শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সর্বদা একজোট হওয়ার ইতিহাস আছে। দূর্যোধন বা এজিদ ইতিহাসের পাতায় চির সমালোচিত। কারণ একটাই তাঁরা অন্যায়ের পক্ষে ছিলেন। সেখানে মানুষ সম্প্রদায়, ধর্ম বিভেদকে সরাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই ব্রাহ্মণ কারবালার ময়দানে ইমাম হোসেনের পক্ষে এজিদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। আর সেই কারণেই তাদের বলা হয় হুসেইনী ব্রাহ্মণ।
পি/ব
No comments:
Post a Comment