কোন আগুন মানুষ ইচ্ছা করে জ্বালায়ে আবার কোন আগুন প্রাকৃতিক কারনে লাগে। কিন্তু সবই নিভে যায়। অথচ প্রাচীন কালের কিছু প্রদীপ এমন আছে যা কোন জ্বালানি ছাড়া হাজার হাজার বছর ধরে জ্বলছে। আধ্যাত্মিক জগতে ভগবানদের এই প্রকার দীপ্তির এক উৎস ছিল। হিন্দু ধর্মেও ঠাকুরদের পিছনে আলোর প্রকাশ লক্ষ করা যায়। কিন্তু সেই আলোর শিখা জ্বালানোর জ্ঞান মানুষদের দেওয়া হতো না। কিন্তু গ্রীসের ভগবান প্রমেথিয়াসকে এই নিয়ম ভঙ্গ করার জন্য শাস্তি পেতে হয়েছিলো।
সে মাউন্ট অলিম্পাস থেকে আগুন জ্বালানোর নিয়ম চুরি করে মানুষদের দিয়ে দেয়। এই ধরনের আলোক শিখার উল্লেখ পাওয়া যায় প্রাচীন মিশরে, রোমে এবং বাইযেন্টাইন সাম্রাজ্যে। যেমন প্লুটার্চ তার লেখা এক বইতে উল্লেখ করেছিলো এইপ্রকার এক দ্বীপের কথা যা মিশরের জুপিটার আমন মন্দিরের বাইরে জ্বালানো হয়েছিলো। মুক্ত জায়গাতে থাকা সত্বেও সেই প্রদিপ ঝড়, বাতাস বা বৃষ্টি দ্বারা নিভতো না।
রোমেও এইপ্রকার ড্বীপের অস্তিত্ব পাওয়া যায় ১৪০ খ্রিস্টাব্দে তৈরি রাজা ইভেন্ডারের পুত্রর গম্বুজে। এই প্রদীপটি ২০০০ বছর ধরে জ্বলছে। পিরামিডের বদ্ধ সমাধির মধ্যে কিছু বাতি, জ্বালানী ছাড়াই প্রজ্বলিত অবস্থায় রয়েছে হাজার বছর ধরে। মধ্য যুগে পৃথিবীর কিছু কিছু জায়গায় যেমন গ্রীস, ইটালি, চীন , ভারত, ফ্রান্স, লন্ডন এবং এরকম আরও কিছু জায়গায় কিছু রহস্যমণ্ডিত জ্বালানীবিহীন বাতি আবিষ্কৃত হয়েছিল যা সমাধিক্ষেত্রগুলো আলোকিত করে রাখত। এগুলো প্রায় ২০০০ বছর ধরে ঠিক একই অবস্থায় এবং অবস্থানে জ্বালানী ছাড়াই প্রজ্বলিত।
ধারণা করা হত এই বাতিগুলো সমাধিতে দেওয়া হয়েছিল... যাতে করে সমাধিস্থ মৃত ব্যাক্তিরা তাদের পরবর্তী জীবনের পথ সহজ ভাবে খুঁজে পেতে পারে!! কিছু কিছু সমাধি অনেক অনেক বছর পর আবার অনুসন্ধানের জন্য খুলে দেখা হলে সেই বাতিগুলোকে সদা প্রজ্বলিত অবস্থাতেই পাওয়া যেত। কিছু কিছু মানুষ এই ঘটনার সম্মুখীন হয়ে ভীত হয়েছে একে পাগান পুরোহিতদের ছল চাতুরী ভেবে।
কেউ কেউ আবার বিশ্বাস করেন এটা সম্পূর্ণ রুপে শয়তান পরিপুষ্ট কাজ হিব্রু জনগোষ্ঠীর লোক বহু আগে এক প্রযুক্তি আবিষ্কার এবং সংরক্ষণ করে রেখেছিল তাদের সেই আদিম প্রযুক্তির নব্য রূপ আজকের তড়িৎ ঐতিহ্য এবং গুপ্ত ইতিহাস বলে ফ্রেঞ্চ একজন ইহুদী পুরোহিত, জাচিলে এক ধরণের বাতি আবিষ্কার করে যা কোন কিছুর সাহায্য ছাড়া জ্বলতে সক্ষম ছিল এমনকি যা প্রজ্বলন করতে জ্বালানীরও প্রয়োজন পড়ত না আজকের দিনে বিদ্যুৎ অত্যন্ত সাধারণ জিনিস হলেও তো প্রশ্ন থেকে যায় শেষ পর্যন্ত কিভাবে এই বাতিগুলো হাজার হাজার বছর ধরে কোন বদ্ধ জায়গায় জ্বালানী বিহীনভাবে নিরবিচ্ছিন্নতার সাথে জ্বলায়মান ?
পি/ব
No comments:
Post a Comment