স্বর্গের অপ্সরীদের মধ্যে অপরুপ লাবণ্যময়ী একজন হল উর্বশি। অনেকের মতে নারায়নের ঊরু ভেদ করে উর্বশির জন্ম, আবার অনেকের বিশ্বাস সমুদ্র থেকে তার জন্ম। এটাও প্রচলিত উর্বশি সাতজন মনুর সৃষ্টি। ঋগ্বেদে উর্বশি আর পুরুবার প্রেম কাহিনীর উল্লেখ আছে। একদিন ইন্দ্রের দরবারে পুরুবা আমন্ত্রিত ছিলেন। সেই দিন ইন্দ্রের সভায়ে নর্তকী হিসাবে উর্বিশিকে ডাকা হয়।
কিন্তু উর্বশি রাজা পুরুবার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সেই দিকে যখন ধ্যান দেয়, তার নাচের ছন্দ ভঙ্গ হয়ে যায়। তখন দেবরাজ ইন্দ্র রেগে গিয়ে তাকে অভিশাপ দেন যে মর্তলোকে গিয়ে সাধারন নারী হিসাবে থাকতে হবে তাকে। উর্বশি তখন আর্জি জানান যে সে মর্তলোকে থাকবে কিন্তু রাজা পুরুবার স্ত্রী হয়ে। ইন্দ্র তার মনবাসনা পুর্ন করতে রাজী হয়ে যান কিন্তু তিনটি শর্ত সাপেক্ষে।
প্রথম শর্ত ছিল দিনে তিনবার পুরুবা উর্বশীকে আলীঙ্গন করতে পারবে। দ্বিতীয় শর্ত হল উর্বশির ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন পুরুষ তার সাথে মিলিত হতে পারবে না। তৃতীয় শর্ত উর্বশি কখনো পুরুবাকে নগ্ন অবস্থায়ে দেখতে পারবে না। এইভাবে উর্বশি মর্তে সংসারে ব্যাস্ত হয়ে পড়েন। কিন্ত্য স্বর্গে তার অভাব সবাই অনুভব করতে থাকে। তাই দেবতারা পরিকল্পনা করে উর্বশির ঘরে দুট্টি মেষশাবক রেখে যান।
উর্বশি তাদের লালন পালন করতে থাকেন। একদিন ইন্দ্রের সভাসদরা একটি শাবক চুরি করতে আসলে উর্বশি বুঝতে পেরে যায় এবং সে পুরুবাকে বলে চোরকে ধরার জন্য। পুরুবা রাতে উঠে চোরকে ধরতে গেলে তার প্যান্ট খুলে যায়। ফলে সে উলঙ্গ হয়ে পড়ে। ঠিক সেই সময়ে দেবরাজ বজ্রাঘাতের মাধ্যমে ঘর আলোকিত করে দেয় যার ফলস্বরূপ উর্বশি পুরুবাকে নগ্ন দেখে ফেলে এবং শাপমুক্ত হয়ে পুনরায়ে স্বর্গে ফিরে যায়।
পি/ব
No comments:
Post a Comment