সুদেষ্ণা গোস্বামী: পৃথিবীতে যখন জন্মেছি মৃত্যু একদিন হবেই। কিন্তু কিছু কিছু হৃদয় পৃথিবীতে এমন থাকে যার ছবি মন থেকে ভুলতে চাইলেও ভোলা যায় না। মাদার টেরিজা তারই মধ্যে একজন। দয়া এবং নিঃস্বার্থের ভাবমূর্তি হলেন মা। বলা হয় সবাই নিজের জন্য নাকি বাঁচে কিন্তু নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে মায়ের ভাবমূর্তি নিয়ে সারা পৃথিবীর মা হতে কজন পারে। তিনিতো ভারতের কেউ ছিলেন না অথচ ভারতে এসে তিনি সমস্ত কিছু ভুলে গিয়ে ভারতের মানুষের সাথে অদ্ভুত প্রেম ও সান্নিধ্য তৈরি করে ফেলেছিলেন।
মাদার টেরিজা যার জন্ম ২৬ অগাস্ট ১৯১০ মেসিডোনিয়ার হয়েছিল। আজ তার জন্মদিন।বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার কথা বারবার মনে করা হচ্ছে আজকে।উনি ৫ ভাইবোনের মধ্যে সবথেকে ছোট ছিলেন এবং সুন্দরী পরিশ্রমই এবং সংগীত প্রিয় মানুষ ছিলেন। একটা অদ্ভুত ধরনের মেয়ে যার মাত্র ১২ বছর বয়সেই মনে হয়েছিল যে তার সমস্ত জীবন স দুঃস্থদের জন্য অতিবাহিত করবেন। ১৮ বছর বয়সে তিনি সিস্টার অফ লরেটো তে জয়েন করলেন।
তিনি যখন ভারতে আসেন ভারতের দারিদ্রতা তার মনকে সবসময় অশান্ত করে রাখত। মাদার টেরিজার পক্ষে এই দুঃস্থদের সাহায্য করার মত ক্ষমতা প্রথম দিকে ছিল না তার জন্য তাকে অনেক লড়তে হয়েছিল। লরেটো ছাড়ার পর তার কাছে কোনো আমদানি ছিল না সেজন্য অন্যদের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে দুঃস্থদের সাহায্য করতে হতো তাকে। তিনি হাড়ার মানুষ ছিলেন না, ধীরে ধীরে তুনি মিশনারিদের অফ চেরিটি মাদার হাউস স্থাপন করেন, নির্মল হৃদয় , নির্মল শিশু ভবনস্থাপন করেন।
যেসব মানুষদের সমাজে স্থান হতোনা এই সংস্থাগুলোতে তিনি নিয়ে গিয়ে দুঃস্থদের রাখতেন এবং তাদের পরম মমতায় সেবা ওশুশ্রূষা করতেন। ভারত সরকার উনাকে পদ্মশ্রী এবং ১৯৮০ তে দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান প্রদান করেন। ভারত রত্নে ভূষিত করেন।আমেরিকায় ১৯৮৫ তাকে মেডেল অব ফ্রিডম' এ অলংকৃত হন এবং ১৯৭৯ নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
এই সমস্ত পুরস্কার ই তার জনকল্যাণের জন্য পাওয়া। মানব সেবার জন্যই তিনি অনেক অন্তর রাষ্ট্রীয় সনমান ও পুরস্কার পান। নোবেল শান্তি পুরস্কারের ১৯২০০০ ডলার গরিবদের একটা ফান্ডহিসেবে ব্যবহার করেন। মাদার টেরিজার পরে এরকম মায়ের অভাব বোধহয় আমরা বারবার অনুভব করব।
পি/ব
No comments:
Post a Comment