তালিবান হামলায় রক্তাক্ত হল আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল। কাবুলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছে জোরালো গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন সুরক্ষা বাহিনীর ছ’জন জওয়ান-সহ মোট ৪০ জন। এছাড়াও আহতের সংখ্যা ৮৩-এরও বেশি। তাঁদের মধ্যে ২০ জন সুরক্ষা বাহিনীর জওয়ান এবং ৬৩ জন সাধারণ নাগরিক। বিস্ফোরণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি বেসরকারি যুদ্ধ সংগ্রহশালা এবং টেলিভিশন স্টেশন। বিস্ফোরণের পরই হামলার দায় স্বীকার করেছে তালিবান জঙ্গি সংগঠন।
সোমবার সপ্তাহের প্রথম দিন, সকালের ব্যস্ত সময়ে জোরালো বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে কাবুলের কেন্দ্রস্থল। সেই সময় রাস্তা প্রচুর সংখ্যক মানুষের ভিড়ে থিক থিক করছিল। মহম্মদ করিম নামে পদস্থ এক পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিল্ডিংয়ের বাইরে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ হয়। এরপরই কমপক্ষে ৩ জন বন্দুকবাজ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ইঞ্জিনিয়ারিং এবং লজিস্টিক দফতর সংলগ্ন উঁচু বিল্ডিংয়ে গিয়ে লুকিয়ে পড়ে। আভ্যন্তরীণ মন্ত্রকের মুখপাত্র নসরত রাহিমি জানিয়েছেন, ‘বিস্ফোরণের পরই বিল্ডিংয়ে ঢুকে পড়ে বন্দুকবাজরা। আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকবাজদের গুলির লড়াই শুরু হয়।
’ বিস্ফোরণের পরই হামলার দায় স্বীকার করেছে তালিবান মুখপাত্র জাবুহুল্লাহ মুজাহিদ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তালিবান জঙ্গিদের নিশানায় ছিল মিলিটারি, সাধারণ নাগরিক নয়। তালিবান হামলার তীব্র নিন্দা করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং আফগানিস্তান সরকার। আফগান প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের, তাঁদের মধ্যে ছ’জন নিরাপত্তা রক্ষী। বাকি ৩৪ জন সাধারণ নাগরিক। গুরুতর আহত ও জখম হয়েছেন ২০ জন নিরাপত্তা রক্ষী-সহ ৮৩ জন।
হতাহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের মুখপাত্র ওয়াহিদুল্লাহ মায়ার জানিয়েছেন, গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে আহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৮৩। তাঁদের মধ্যে ন’টি শিশুও রয়েছে। প্রত্যেককে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সোমবার সকালে বিস্ফোরণের পরই গোটা এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। আতঙ্কে-প্রাণভয়ে উপস্থিত মানুষজনের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।
pb
No comments:
Post a Comment