আমাদের রাজ্যে বৃষ্টির গতি-প্রকৃতি আর জমির নিকাশী অবস্থার সঙ্গে এই ফসল যখন উঠবে তার বেশী দাম পাওয়াটাই আসল উদ্দেশ্য। বীজতলায় ৪০-৪৫ দিন ধরে রোয়ার পর ১০০-১১০ দিন হিসাবে মোট পাঁচ মাসের ফসলে গত কয়েক বছরে শরতের পর চড়া দামের সময় ও গতি-প্রকৃতি দেখে ৫ মাস পিছিয়ে বোনা ও রোয়ার সময় নির্ধারণ করুন। সাধারণ হিসাবে এই জাত আষাঢ়ের মাঝ থেকে নাবি করে ভাদ্রের প্রথমার্ধ অবধি লাগানো যাবে। ‘এগ্রিফাউন্ড ডার্ক রেড’ নামক কেন্দ্রীয় গবেষণা সংস্থার জাতটি খরিফ মরশুমে চাষের উপযুক্ত। এটির খোসা শক্ত ও মাঝারী ঝাঁঝযুক্ত। কন্দের ব্যাস ৪-৬ সেমি। চারা রোয়া করার ৯০-১১০ দিনে ফসল তোলা যায়।
বিঘা (৩৩ শতক) প্রতি গড় ফলন ৩৫ কুইন্টাল তবে এখানে উন্নত প্রযুক্তি-প্যাকেজে ৪০ কুইন্টালের বেশী ফলন অনায়াসে সম্ভব। সবচেয়ে বড় কথা এই যে, এ জাতের কন্দের আকার, গাঢ় লাল রঙ আর ঝাঁঝ বাঙালীর হেঁসেলের খুব উপযোগী। বীজ বোনার পর বীজতলা ট্রাইকোডার্মা মেশানো শুকনো গোবর/কেঁচোসার দিয়ে হালকা করে ঢেকে তার উপর শুকনো খড়ের আস্তরণ দিয়ে দিন। যদি উই বা পিঁপড়ের উপদ্রব থাকে তবে ক্লোরপাইরিফস্ ২০ ই.সি. ২ মিলি/লি. জলে হালকা করে খড়-মাটি আস্তরণ ভিজিয়ে স্প্রে করুন।
বর্ষার পেঁয়াজ বীজতলায় অন্য সবজি ফসলের মতই বাঁশের বাখারি দিয়ে উপরে পলিথিনের শীট দিয়ে ঢেকে দিন।এক্ষেত্রে চাষিরা কমদামী যে পলিশীট ব্যবহার করেন ও বীজতলা খুব আঁটোসাটো করে ঢেকে দেন, তা না করে একটু মোটা পলিশীট অল্প বেশী খরচে কিনুন ও বাঁশের বাখারি চওড়া করে দুপাশে হাওয়া চলাচলের জায়গা রাখুন। এতে চারার বৃদ্ধি হবে সুন্দর ও ড্যাম্পিং অফের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বীজ ফুটতে শুরু করলে খড়ের আচ্ছাদন সরিয়ে বৃষ্টির গতি-প্রকৃতি বুঝে পলিশীট সরিয়ে রোদ-হাওয়া খাওয়ান। দিন ১০-১৫ ও মাসখানেকে মিশ্র-ছত্রাকনাশক কার্বেন্ডাজিম+ম্যানকোজেব ১ গ্রাম/লি. হিসাবে স্প্রে করে রাখুন। খরিফে ৪০-৪৫ দিনের চারা রোয়ার উপযোগী হয়।
পি/ব
No comments:
Post a Comment