বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি-‘আমরা জনসংযোগও বাড়াচ্ছি’ - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 30 June 2019

বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি-‘আমরা জনসংযোগও বাড়াচ্ছি’





মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি শুক্রবার বিধানসভায় একথা বলেন। ‘ভালবাসা দিয়ে মানুষকে আপন করে নিতে হবে। দূর–দূরান্ত থেকে হাসপাতালগুলিতে মানুষ আসে। একটু মিষ্টি ব্যবহার করলেই তো হয়। আমাদের ডাক্তাররা খুব ভাল কাজ করেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা জনসংযোগও বাড়াচ্ছি। কাউন্সেলিংয়েরও ব্যবস্থা হচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গেও রাজ্য সরকার ব্যবস্থা রেখে চলেছে। ‌আমি অনেক আন্দোলনেই গেছি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও যখন আন্দোলন চলছিল আমি গিয়েছিলাম। সংবেদনশীল বিষয়।



আমরা সমস্যার সমাধান করি। গোটা বিষয়টি মানবিকভাবে দেখি।’  বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান হাসাপাতালের জুনিয়র ডাক্তারদের হেনস্থার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মুখ্যমন্ত্রী তথ্য দিয়ে বলেন, ‘২০০৮–০৯ সালে গুজরাটে নরেন্দ্র মোদি এসমা জারি করেছিলেন। ১৫০ জন ডাক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।’ রাজস্থান, হরিয়ানা, দিল্লি ও মণিপুরের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘ডাক্তার ও রোগীদের মধ্যে ভালবাসার বিষয় আছে। ভালবেসে অনেক কিছু করা যায়। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানও হয়।’ আবদুল মান্নান জানতে চান, জুনিয়র ডাক্তারদের হেনস্থাকে কেন্দ্র করে এক চরম সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছিল।



এই ধরনের ঘটনা বন্ধ করতে সরকার কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে? স্বাস্থ্য দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘চলতি বছরের ১০ জুন নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে অপ্রীতিকর ঘটনার ফলে জুনিয়র ডাক্তাররা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এই সমস্যার সুস্থ সমাধান হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই ধরনের অবাঞ্ছিত ঘটনা এড়াতে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সুরক্ষা ব্যবস্থা দৃঢ় করার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর, কলকাতা পুলিশ ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ একসঙ্গে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।’




সুরক্ষা ব্যবস্থা

➲ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর এবং পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বর্তমান সুরক্ষা পরিকাঠামো ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘাটতিগুলিকে নির্মূল করে, সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।

➲ সুরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর তৈরি করা হচ্ছে। যার মধ্যে হাসপাতালে প্রবেশ ও বেরোনোর নিয়মাবলী, রোগীর সঙ্গে আসা মানুষের সংখ্যার নিয়ন্ত্রণের শর্ত বলা থাকবে। নিয়মিত নজরদারি করা হবে। হাসপাতালে মূল প্রবেশপথে এবং জরুরি বিভাগে প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত হবে। 

➲ রোগীর সঙ্গে আসা পরিজনদের ওয়ার্ডে প্রবেশ করার জন্য নির্দিষ্ট রঙের কার্ড দেখানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। 


➲ রোগীর সঙ্গে আসা আত্মীয়পরিজন বা অন্যান্যদের অভিযোগ কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে, সে ব্যাপারে সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকরা মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার, অন্যান্য চিকিৎসা কর্মী ও সুরক্ষা কর্মীদের অবহিত করবেন। 


➲ প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের একজন বরিষ্ঠ আধিকারিককে নোডাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


➲ প্রতিটি হাসপাতালে জন অভিযোগ কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে। যেখানে একজন জনসংযোগ আধিকারিক দিন–রাত থাকবেন।


➲ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কোনও সমস্যা দেখা দিলেই, হাসপাতাল সংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়িতে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে।


➲ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিটি জায়গায় সিসি টিভি ক্যামেরাই যাতে দৃশ্যমান থাকে, সে সম্পর্কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


➲  হটলাইন ও অ্যালার্ম ইত্যাদির ব্যবস্থা ঠিকভাবে চালু রাখার জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ব্যবস্থাগুলি ঠিকঠাক আছে কিনা তা দেখার জন্য নিয়মিত মহড়া করতে হবে। 


➲  চিকিৎসক ও অন্য চিকিৎসাকর্মীকে রোগীর পরিজনদের প্রতি আরও সংবেদনশীল হতে বলা হয়েছে।


➲ প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কত সুরক্ষাকর্মী প্রয়োজন, তা স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা দপ্তর খতিয়ে দেখছে। সেই অনুযায়ী অতিরিক্ত পেশাদার সুরক্ষাকর্মীর সংখ্যা অনুমোদন করা হবে।



কে

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad