সিনেমা পাড়ার অমানবিক ঘটনা : কবির সুমনের ওয়াল থেকে - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 5 April 2019

সিনেমা পাড়ার অমানবিক ঘটনা : কবির সুমনের ওয়াল থেকে





সকলে জানুন, সকলে শুনুন -

মাননীয় অভিনেতা ও সাংসদ (পুনরায় ভোটে দাঁড়ানো) দেববাবুর প্রযোজনা সংস্থার প্রযোজনায় ও মাননীয় চলচ্চিত্রকার অনিকেত চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায় নির্মীয়মান 'হবুচন্দ্র রাজা গবুচন্দ্র মন্ত্রী' ছবির ঘেন্নায় কাজ ছেড়ে দেওয়া প্রাক্তন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে এই লেখাটি লিখছি। কাজটা ছেড়ে দিয়েছি, কিন্তু আমায় যারা অপমান করেছে তাদের আমি ছাড়ব না। সকলে জানুন, পড়ুন -

অনিকেতবাবু আমার কাছে এই হবুগবু ছবির প্রথম গান হিসেবে নবীন কন্ঠে সমবেতভাবে গাওয়া হবে এমন একটি গান চেয়েছিলেন। বলেছিলেন - গানটি যেন কাহিনীর রূপরেখা বলে দেয়। শুরুতেই দর্শকরা ছবির একটা ভূমিকা পেয়ে যাবেন।

আমার ছাত্রী, সহশিল্পী, সহকর্মী ও বন্ধু রাকা ভট্টাচার্য (যাঁর সহায়তা ছাড়া বাংলা খেয়ালের ক্লাস চালাতেই পারতাম না) ছজন নবীন গায়ক গায়িকাকে নিয়ে আসেন। সবার ছোট এখনও আছেন প্লে গ্রুপে। সবার বড় ক্লাস ফোর। প্রধানত রাকার তৎপরতায় এই নবীনরা "বোম্বাগড়ের গল্প" গানটি শিখে নেন। তারপর আমার সঙ্গে মহলা দেন তাঁরা।

অন্য গানগুলির মতো "বোম্বাগড়ের গল্প" গানটির যন্ত্রাণুষঙ্গ আমিই নির্মাণ করি। দ্বিতীয় কোনও যন্ত্রীর দরকার পড়েনি।

নবীন শিল্পীরা নির্দিষ্ট দিনে স্টুডিয়োয় গিয়ে ছোট্ট ছোট্ট কানে ইয়া বড় বড় হেডফোন লাগিয়ে আমার তৈরি মিউজিক ট্র্যাক শুনে শুনে গানটি গেয়ে দেন। তাঁদের বাবামারাও এসেছিলেন।

নবীনদের সঙ্গে কাজ করে আমি সবচেয়ে বেশি আনন্দ পাই। কত সহজেই যে তাঁরা কাজ করে দেন। বড়রা এটা পারেন না সব সময়ে।

অসামান্য একাগ্রতা, তালজ্ঞান, লয়জ্ঞান ও সুরজ্ঞান দিয়ে (তালজ্ঞান ও লয়জ্ঞান সবচেয়ে জরুরি) আমার নবীন সহশিল্পীরা নানান টেকের মাধ্যমে গানটি গেয়ে দিলেন। মনে রাখতে হবে সবার ছোট প্লে গ্রুপ, সবার বড় ক্লাস ফোর।

জীবনে এই প্রথম দেখলাম (১৯৮৫ সালে প্রথম বাংলা ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলাম) প্রযোজকও স্টুডিয়োয় এলেন না, প্রযোজনা সংস্থা থেকেও কেউ এলেন না, ছবির মাননীয় পরিচালকও এলেন না। মিডিয়া থেকে কেউ এলেন না নবীন শিল্পীদের রেকর্ডিং-এর ছবি তুলতে, নবীন শিল্পীদের ছবি তুলতে। সারা দিন কাজ হলো কেউ এলেন না। রেকর্ডিং এর ছবি তুললেন রাকা আর আমাদের বন্ধু, সহকর্মী সৌমী। তাঁদের তোলা ছবিই আনন্দলোক পত্রিকা ব্যবহার করেছেন।

ছেলেমেয়েরা সারা দিন পরিশ্রম করছেন স্টুডিয়োয় - প্রযোজক বা পরিচালক তাঁদের খাওয়ার ব্যবস্থা করলেন না। আমার কেমন মনে হয়েছিল প্রযোজক মাননীয় সুপারস্টার ভোটে দাঁড়ানো দেববাবু বা মাননীয় পরিচালক অনিকেতবাবু এই নবীনদের খাওয়াবেন না। তাই আমি খবর পাঠিয়ে দিয়েছিলাম ছেলেমেয়েরা যেন খেয়ে আসেন। মহান প্রযোজক বা মহান পরিচালক কেউই কিন্তু তা জানতেন না।

কাজ চলাকালেও তো খিদে পেতে পারে। অল্পবয়সীর দল। না। মাননীয় প্রযোজক সংস্থা (দেব এন্টারটেনমেন্ট) বা মাননীয় পরিচালক অনিকেতবাবুর তা মাথায় আসেনি। বোম্বাই-এর কোনও তারকা এলে কিন্তু সক্কলে মিডিয়ার ফোটগ্রাফার ও ভিডিও ইউনিটের পাল নিয়ে সেজেগুজে "হাই হাই" করতে করতে স্টুডিয়োয় এসে পোজ দিতেন।

ছেলেমেয়েরা কাজ করলেন। আমার নাতিনাতনি সব। আমাদের বাড়িতে মহলার দিন জেনে নিয়েছিলাম কার কী পছন্দ। কেউ কেউ বলেছিলেন চকলেট। প্লে গ্রুপ বলেছিলেন - না, চিপ্‌স্‌। রাকা আর সৌমী দায়িত্ব নিয়ে সেগুলি কিনে এনে শিল্পীদের দিয়েছিলেন।

প্রযোজক সংস্থা দেব ইন্টারন্যশনাল ও পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায় এত্ত বড়ো, এতোটাই বড়ো , এতোটাই উচ্চমার্গের যে নবীন শিল্পীদের চকলেট চিপ্‌স্‌ কেনার কথা ভাবতে যাবেন কেন। এঁদের ঘরে বোধহয় শিশু নেই। নাতিনাতনি হবে না। পাতানো ছেলেমেয়ে নাতিনাতনিও হবে না। ভালবাসা, স্নেহ, মমতা, আদর এসব প্রতিক্রিয়াশীল, আনস্মার্ট জিনিস।

মাননীয় দেববাবু ও মাননীয় অনিকেতবাবুর নেতৃত্বে তৈরি হবুচন্দ্র রাজা গবুচন্দ্র মন্ত্রীর প্রথম প্রচার ভিডিোটি কিন্তু এই রাজ্যের ছটি অল্প বয়সী ছেলেমেয়ের গাওয়া "বোম্বাগড়ের গল্প" গানটিকে অবলম্বন করে তৈরি।

লজ্জাও করে না কারুর। নবীন শিল্পীদের ছবি তোলার , তাঁদের রেকর্ডিং এর ভিডিও তোলার ব্যবস্থা মাননীয় দেব অধিকারির সংস্থা বা মাননীয় পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায় করেননি। নবীনদের গাওয়া গানটি দিয়ে হবুগবু ছবিটি শুরু হওয়ার কথা। ছবির প্রথম প্রচার ভিডিও তৈরি হয়েছে নবীনদের গাওয়া গানটির ওপর ভর করেই।

আপনারা জানুন। সকলকে বলুন। আমাদের বাংলা ছবির ইন্ডাস্ট্রি আর্থিক দিক দিয়ে জোরালো নয়। কিন্তু বড় বড় প্রতিভা এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে গেছেন।

কবীর সুমন
৫ এপ্রিল ২০১৯

লেখাটি শিল্পী কবির সুমনের ওয়াল থেকে সংগৃহীত। মতামত লেখকের ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad