রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে সিবিআইয়ের হাতে। সেই রিপোর্টই মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে জমা দিয়েছে সিবিআই। যা দেখে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জানিয়েছেন, রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে রাজীব কুমার সুপ্রীম কোর্টে স্বস্তি পাচ্ছেন কিনা পরবর্তী বিষয় । বিশেষ আদালতে সারদার মুল মামলায় জড়িয়ে পড়ায় সারদা মামলা ইস্যু গলার কাটা হয়ে দেখা দিতে চলেছে রাজীব কুমারের।সৌজন্য কুনাল ঘোষ । বারাসাত বিশেষ আদালতে মুল সারদা মামলায় নাম নথিবদ্ধ করাতে মঙ্গলবার বারাসাত বিশেষ আদালতে কুনাল ঘোষ আবেদন করেন ।
কুনাল ঘোষ জানান , এর আগেই জেরার ভিত্তিতে সিবিআই সুপ্রীম কোর্টের কাছে পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার রাজীব কুমারের বিষয়ে তাদের তদন্তের হলফনামার উল্লেখ করে । কিন্তু বিশেষ আদালতের মুল মামলার বিচারের আওতায় রাজীব কুমার কে আনতে কুনাল ঘোষের এদিনের আবেদন পেশ ।
প্রসঙ্গত শিলংয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারির সিবিআই- য়ের জেরার পরে ১১ ফেব্রুয়ারি সারদা মামলায় পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার রাজীব কুমার কে কুনাল ঘোষের মুখোমুখি বসিয়ে জেরার পরে কুনাল ঘোষ বিষ্ফোরক হয়ে ওঠেন কুনাল ঘোষ । তখনই তিনি জানান , জিগ্গাসাবাদের সময় যে পুলিশ অফিসার দের নাম উঠে আসে তাঁদের কারও কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন রাজীব কুমার যা তিনি স্বীকারও করেন । এর পরবর্তীতেই তিনি বারংবার নিশানায় রাখেন রাজীব কুমারকে যা পরিস্কার করে দেয় পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার রাজীব কুমারকে সারদা মামলাকে কেন্দ্র সামান্যতম স্বস্তির অক্সিজেন তিনি পেতে দিতে নারাজ । কুনাল ঘোষের আইনজীবী অয়ন চক্রবর্তী দাবী সুপ্রিম কোর্টের সিবিআইয়ের হলপনামা নিম্ন আদালতে আসেনি।তিনি সেটাই আদালতে এনে দিয়েছেন।
সারদা চিটফান্ড মামলায় কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার রাজীব কুমারকে সম্প্রতি যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, সে ব্যাপারে সিবিআইয়ের দেওয়া নতুন স্টেটাস রিপোর্টে উন্মোচিত কিছু তথ্যকে ‘খুবই গুরুতর’ বলে মঙ্গলবার জানাল সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মন্তব্য করেছে, যে সব গুরুতর তথ্য উঠে এসেছে, এত গুরুতর অভিযোগ দেখে চুপ করে বসে থাকবে না সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে, তারা যেন আবেদন করে আদালতকে জানায়, যে তারা রাজীব কুমারের বিষয়ে কী পদক্ষেপ করতে চায়।
সারদা চিট ফান্ড মামলার তদন্তের জন্য যে স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) তৈরি করা হয়েছিল, তার প্রধান পরিচালক ছিলেন রাজীব কুমার। এই বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, এই আবেদন যেন দশ দিনের মধ্যে কোর্টের কাছে জমা দেয় সিবিআই। তার পরে, সাত দিনের মধ্যে তাঁর বক্তব্যও আদালতে জানাতে পারবেন রাজীব কুমার।
কোর্ট জানিয়েছে, সিবিআই স্টেটাস রিপোর্ট সিল করা কভারে জমা পড়েছে। এবং অন্য পক্ষের বক্তব্য না শুনে আদালত কোনও রায় দিতে পারবে না।

No comments:
Post a Comment