করোনাভাইরাসের নতুন রূপ ওমিক্রন নিয়ে সারা বিশ্বের পাশাপাশি এদেশেও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ভারতেও ঢুকে পড়েছে ওমিক্রন। এই সপ্তাহে কর্ণাটক থেকে ওমিক্রনে আক্রান্ত দুজনের সন্ধান মিলেছে। তাদের মধ্যে একজন 46 বছর বয়সী ডাক্তারও রয়েছেন। তবে আক্রান্ত চিকিৎসক এই মুহূর্তে ভালো আছেন। তিনি নিজেই বলেছেন, তিনি কোনও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন না। তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওয়া এই রূপটিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলা হচ্ছে। এটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় এর উপসর্গও ভিন্ন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক কী বললেন আক্রান্ত চিকিৎসক-
আক্রান্ত চিকিৎসক ইংরেজি পত্রিকা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, ঘরে তালাবদ্ধ থাকা রোগের চেয়েও বেশি বেদনাদায়ক। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তিনি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রথমে নিজেকে কোয়ারেন্টাইন করেন। তার স্ত্রী ও সন্তানদেরও কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। আক্রান্ত চিকিৎসক এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন, যদিও তিনি এখনও হাসপাতালেই আছেন।
Omicron- এর উপসর্গ কি?
ওমিক্রনের লক্ষণ সম্পর্কে তিনি বলেন যে, তার শরীর খুব ব্যথা হচ্ছে। এছাড়া তার হালকা জ্বর থাকলেও শ্বাসকষ্ট ছিল না। তার অক্সিজেনের মাত্রাও ধারাবাহিকভাবে স্বাভাবিক ছিল। ২১ নভেম্বর থেকে তার জ্বর শুরু হয়। পরের দিন, তিনি আরটি-পিসিআর পরীক্ষার জন্য তার সোয়াবের নমুনা দেন। ডাক্তার বলেন, 'আমার সর্দি লাগেনি। এছাড়াও আমার শরীরের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্তই ছিল।
কিভাবে Omicron সংক্রমণের জন্য চিকিত্সা করা হয়েছিল?
আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম দিন বাড়িতেই ছিলেন চিকিৎসক। এরপর তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসক আরও বলেন, '২৫ নভেম্বর আমাকে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডির ডোজ দেওয়া হয়েছিল। এতে আমি অনেক উপকৃত হই। পরের দিন আমার করোনার কোনও উপসর্গ ছিল না।' উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে একজন ভাইরোলজিস্ট বলেছিলেন যে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি বা ককটেল চিকিত্সা ওমিক্রনের ওপর খুব বেশি প্রভাব ফেলে না।
পরিবারের সদস্যরাও আক্রান্ত
চিকিৎসক হাসপাতালে ভর্তি হলে, এরই মধ্যে তার স্ত্রী, যিনিও পেশায় একজন চিকিৎসক, তারও করোনার লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। এরপর ২৬ নভেম্বর পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তার রিপোর্টও পজিটিভ আসে। এরপর তার মেয়েরাও করোনায় আক্রান্ত হয়। কিন্তু পরে আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় তাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার যখন জানা যায় ডাক্তার ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছেন, তখন তাকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
No comments:
Post a Comment