সোমবার সন্ধ্যায় শ্রীনগরে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বাসে সন্ত্রাসী হামলার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের সাথে অবিরাম যোগাযোগ করছে৷ ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে খবর সামনে আসছে যে বাসে তিনদিক থেকেই হামলা হয়েছে এবং সেটি বুলেটপ্রুফও ছিল না। শুধু তাই নয়, বলা হচ্ছে বাসে বসা নিরাপত্তা কর্মীরাও পুরোপুরি সশস্ত্র ছিলেন না। খুব কম পুলিশ কর্মীর কাছে অস্ত্র ছিল। কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, বাস থামাতে টায়ারে গুলি ছোঁড়ে সন্ত্রাসীরা। এরপর তিনদিক থেকে বাসে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়।
কারা এই কাপুরুষোচিত ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা বিদেশি নাকি স্থানীয়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সব দিক বিবেচনায় রেখে বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনীকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, কোনও অবস্থাতেই হামলাকারীরা যেন পালাতে না পারে। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করছে।
এ ঘটনায় হাইব্রিড সন্ত্রাসীরা জড়িত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। যেভাবে হামলা হয়েছে তাতে বোঝা যাচ্ছে হামলার আগে নিশ্চয়ই খোঁজ-খবর নেওয়া হয়েছে। যে গাড়িতে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যাচ্ছে সেটি বুলেট প্রুফ নয়, তা সন্ত্রাসীরা নিশ্চয়ই জেনে গিয়েছিল। সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত নতুন টার্গেট ও নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করছে। এমন যুবকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে, যাদের আগে সন্ত্রাসের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক ছিল না। এ ধরনের যুবকরা কোনও সন্ত্রাসী দলে যোগ দেয় না। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের অস্ত্র ও অর্থ দেওয়া হয়। হামলা চালিয়ে তারা আবার মূল স্রোতে ফিরে আসে এবং সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যায়। তাদের শনাক্ত করা কঠিন।
কোথায় নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল
সূত্র বলছে, কী ধরনের পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার মানদণ্ড লঙ্ঘন হয়েছে, সেদিকেও নজর দেওয়া হবে। কারণ অতীতে নিরাপরাধ বেসামরিক মানুষকে টার্গেট কিলিংয়ে নিশানা করার পর পুলিশ বাহিনীর ওপর এ ধরনের হামলা একপ্রকার সতর্কতামূলক হুমকি।
No comments:
Post a Comment