বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাগাল্যান্ডে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবী করেছেন। পাশাপাশি তৃণমূলের ৫ সদস্যের একটি দল নাগাল্যান্ড যাচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। দলের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, "সকলকে জানানো হচ্ছে যে, একটি পাঁচ সদস্যের AITC প্রতিনিধি দল নাগাল্যান্ড সফর করবে এবং ওটিং, সোমে হৃদয় বিদারক ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াবে।"
উল্লেখ্য, ৫ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলে থাকবেন চার সংসদ সদস্য- প্রসূন ব্যানার্জি, সুস্মিতা দেব, অপরূপা পোদ্দার ও শান্তনু সেন- এবং দলের মুখপাত্র বিশ্বজিৎ দেব।
নাগাল্যান্ডের মোন জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে পরপর তিনটি ঘটনায় ১৫ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছে। রবিবার পুলিশ বলেছে, যার মধ্যে প্রথমটি সম্ভবত ভুল পরিচয়ের একটি ঘটনা ছিল৷ এর পরের দাঙ্গায় একজন সেনাও মারা যায়।
শনিবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর কর্মীরা কয়লা খনি শ্রমিকদের একটি পিক-আপ ভ্যানে করে বাড়ি ফেরার সময় অবৈধ NSCN(K)-এর ইউং অং উপদলের বিদ্রোহী বলে ভুল করে এবং ছয়জন বেসামরিক লোক নিহত হওয়ার পর প্রথম বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
যখন শ্রমিকরা তাদের বাড়িতে পৌঁছাতে পারেনি, তখন স্থানীয় যুবক ও গ্রামবাসী তাদের খোঁজে বের হয় এবং সেনাবাহিনীর গাড়ি ঘেরাও করে, বলে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। সংঘর্ষে এক সৈন্য নিহত হয় এবং সেনাবাহিনীর গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আত্মরক্ষার্থে সৈন্যরা গুলি চালালে সাত বেসামরিক লোক নিহত হয়।
নিরাপত্তা বাহিনী ওই এলাকায় আসাম রাইফেলস ক্যাম্পে হামলাকারী একদল লোকের ওপর গুলি চালায়, সেখানে আরও দু'জন নিহত এবং দুজন আহত হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে ইতিমধ্যেই মোদী বিরোধী প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বঙ্গের সীমা ছাড়িয়ে অন্যান্য রাজ্যেও প্রভাব বিস্তার করতে কোনও রকম ত্রুটি রাখতে চাইছে না তৃণমূল। আর এই কারণেই দিল্লী থেকে মুম্বাই, ত্রিপুরা চষে বেরাচ্ছে বঙ্গের শাসক দলের নেতা-কর্মীরা। এসবের মাঝেই ঘটে গেল নাগাল্যান্ড গুলিকাণ্ড। এবার এই নাগাল্যান্ডের মোন জেলায় গুলির ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সোমবার পাঁচ সদস্যের এক টিএমসি প্রতিনিধিদল নাগাল্যান্ড সফর করবে।
No comments:
Post a Comment