নিজস্ব প্রতিবেদন: 'ভালো নেই বাবা, শরীরে কমেছে সোডিয়াম-পটাশিয়াম, তাই এমন কথা বলছেন।' বললেন মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায়। সেইসঙ্গেই তিনি এও জানিয়েছেন, মুকুল রায় তৃণমূলেই আছেন। শুক্রবার ভাইরাল এক ভিডিওতে দেখা যায়, মুকুল রায় বোলপুরে গিয়েছিলেন, সেখানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রাজ্যে পৌর নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হবে ভারতীয় জনতা পার্টি। না এখানেি থামেননি রায় সাহেব। পাশে থাকা তৃণমূলের অন্যান্য নেতারা তাঁর ভুল শুদরে দিতে চাইলে তিনি বলেন, 'তৃণমূল মানেই বিজেপি।' পাশে দাঁড়িয়ে মুকুল রায়ের এমন কথা শুনে বীরভূমের কেষ্ট দা তথা অনুব্রত মন্ডলও অবাক নয়নে চেয়ে থাকেন। পরে ঠিক আছে বলে, মুকুল রায়কে নিয়ে এগিয়ে যান তিনি।
এদিকে রায় সাহেবের এই মন্তব্যে ততক্ষণে শোরগোল পড়ে যায়, তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি। বিজেপি নেতা অনুপম রায় সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন মুকুল রায়ের উদ্দেশ্য। তিনি সামাজিক মাধ্যমে এই ভাইরাল ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশন দিয়ে লেখেন, "যখন একটা সম্পর্কে থাকার পরেও মানুষ যখন তাঁর প্রাক্তনকে ভুলতে না পারে!"
প্রতিক্রিয়া এসেছে তৃণমূল নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের তরফ থেকেও। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাদ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মুকুল রায়ের এই কথা দলের নয়। তিনি সম্প্রতি যেসব অসংলগ্ন কথা বলছেন, তাতে আমাদের মনে হচ্ছে উনি শারীরিক ভাবে সুস্থ নয়। ভারসাম্যহীন ভাবে কথা বলছেন। পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটিতে তিনি এই শারীরিক অসুস্থতার জন্য থাকতে চান কিনা, তাও ভেবে দেখা হবে বলে জানান পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
মুকুল রায়ের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু জানান, "বাবার একটা প্রবলেম আছে, সোডিয়াম-পটাশিয়ামের। কোভিড হয়েছিল, মা-ও মারা গেছেন, সব মিলিয়ে বাবার ওপর একটা মেন্টাল প্রেসার রয়েছে। এই কারোনেই এমন হচ্ছে। ডঃ দেখানো হচ্ছে। উনি তৃণমূলেই আছেন।"
এদিকে মুকুল রায়ের বক্তব্য পরিপেক্ষিতে শনিবার হাওড়ার এক সভায় যোগ দেওয়ার পর বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, 'শুনেছি ওনার শরীর ভালো নেই, উনি অনেককেই চিনতে পারছেন না। তাই ওনার কথা ধরতব্যের মধ্যে নেওয়া উচিৎ নয়। আমরা চাই উনি দ্রুত সুস্থ হয়ে রাজনীতি ময়দানে আসুক।'
বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যও বলেন, "মুকুল রায় অসুস্থ। রাজনীতির এমন ঘৃন্য চেহারা আগে কখনও দেখিনি। ওনার বাড়ীর লোক, অনুগামী ও দলের কাছে অনুরোধ, ওনাকে পদত্যাগ করান, বাড়ি নিয়ে যান, চিকিৎসা করান, মানুষটাকে বাঁচান।"
No comments:
Post a Comment