পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ যেমন ভিন্ন স্বভাবের, তেমনই তাদের শখও ভিন্ন। কিন্তু, একজন মানুষ যদি জলের প্রতি এতটাই অনুরাগী হয়ে পড়েন যে, সে নিজেকে সারাক্ষণ জলের মধ্যেই রেখে দেন, তাহলে একে কী বলবেন? অবাক হচ্ছেন? কিন্তু অবাক হলেও একথা সত্যি। আমাদের রাজ্যেই (পশ্চিমবঙ্গ) এমন এক নারী রয়েছেন, যিনি দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা জলের নিচে থাকেন। শুধু তাই নয়, সকাল হতে না হতেই পুকুরের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন এবং তারপর সারাদিন জলে দাঁড়িয়ে থাকেন।
ঘটনাটি বর্ধমানের কাটোয়া জেলার গোওয়াই গ্রামের। যেখানে ৬০ বছর বয়সী এক নারী প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা জলে দাঁড়িয়ে থাকেন। ওই নারীর পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বিশ বছর ধরে সকালে ঘুম থেকে উঠেই তিনি পুকুর বা জলের জায়গা খুঁজতে বের হন। প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা জলে থাকে। রোজ সকালে তিনি সূর্য ওঠার আগে পুকুরে নামেন এবং সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের পর বাড়ি ফিরে আসেন।
জানা যায়, এই মহিলা গলা পর্যন্ত জলে ডুবে থাকেন এবং সেখানে সারা দিন কাটান। পুকুরে থাকার সময় তিনি মানুষের সাথে কথা বলেন এবং সেখানেই খাবার খান। বাড়িতে যাওয়ার হলেই তিনি পুকুর থেকে উঠে আসেন। কথিত আছে যে এই মহিলার একটি অদ্ভুত রোগ রয়েছে, যা তাকে গত ২০ বছর ধরে সমস্যায় ফেলেছে। যার কারণে তাদের ত্বকে প্রচুর জ্বালাপোড়া হয়। এই জ্বালা এড়াতে তিনি প্রতিদিন সকালে পুকুরে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।
ওই নারীর মেয়ের কথানুযায়ী, কুড়ি বছর আগে অসুস্থতার কারণে রোদ লাগলেই তার ত্বক জ্বলতে থাকে এবং প্রচণ্ড গরম লাগত। এরপর জলে নামলেই স্বস্তি পেতেন তিনি। তাই তিনি প্রতিদিন জলে দাঁড়িয়ে থাকেন।
উল্লেখ্য, এই নারী ১৯৯৮ সাল থেকে এই কাজটি করে আসছেন। এখন মানুষ বুঝতে শুরু করেছে যে এই মহিলার আত্মা পুকুরেই স্থির হয়েছে কারণ তার সারাদিন পুকুরেই কাটে।
No comments:
Post a Comment