চলচ্চিত্র নির্মাতা আলী আকবর তার স্ত্রীর সাথে হিন্দু ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, যারা সিডিএস জেনারেল বিপিন রাওয়াতের মৃত্যুকে অপমান করছেন তাদের জন্যই তিনি ইসলাম ত্যাগ করছেন। জেনারেল রাওয়াতের মৃত্যু সম্পর্কিত পোস্টে বেশ কিছু লোক 'স্মাইলি ইমোটিকন' ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ। উল্লেখ্য, বুধবার তামিলনাড়ুর কুন্নুর জেলায় এক দুর্ঘটনায় সেনা সর্বাধিনায়ক, তাঁর স্ত্রী সহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, আকবর বলেছেন যে এমনকি ইসলামের শীর্ষ নেতারাও সাহসী সামরিক অফিসারকে অপমান করা এই জাতীয় 'দেশবিরোধী'-দের বিরোধিতা করেননি। চলচ্চিত্র নির্মাতা বলেন, তিনি এটা মেনে নিতে পারছেন না। আকবর বলেন, ধর্মের ওপর থেকে তাঁর বিশ্বাস উঠে গিয়েছে। বুধবার ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও শেয়ারও করেন তিনি।
চলচ্চিত্র নির্মাতা বলেন, 'আজ আমি জন্ম সূত্রে পাওয়া পরিচয়ের পোশাক উপড়ে ফেলছি। আজ থেকে আমি মুসলমান নই, আমি একজন ভারতীয়। আমার এই উত্তর সেই লোকদের জন্য যারা ভারতের বিরুদ্ধে হাজার হাজার হাসির ইমোটিকন পোস্ট করেছে।' অনেক মুসলিম ইউজার্স তার পোস্টের বিরোধিতা করেছেন এবং তাকে অপমানজনক বলেছেন। যদিও অনেক ইউজার্স তার সমর্থনও করেছে। কিছুক্ষণ পর এই পোস্ট ফেসবুক থেকে উধাও হয়ে যায়।
অন্য একটি পোস্টে আকবর লিখেছেন, 'দেশের উচিৎ যারা সিডিএসের মৃত্যু নিয়ে হাসছে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া। 'টাইমস অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে আলাপচারিতায় আকবর বলেন, অনেক দেশবিরোধী কার্যকলাপ সোশ্যাল মিডিয়ায় স্থান করে নেয় এবং জেনারেল রাওয়াতের মৃত্যুতে হাসির ঘটনা তার তরতাজা উদাহরণ। তিনি বলেন, 'যারা হাস্যোজ্জ্বল ইমোটিকন দিয়ে মন্তব্য করছেন এবং রাওয়াতের মৃত্যুর খবর উদযাপন করছেন তাদের বেশিরভাগই মুসলিম।'
তিনি আরও বলেন, 'তারা এটা করেছে কারণ রাওয়াত পাকিস্তান ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অনেক পদক্ষেপ করেছেন। সাহসী সামরিক অফিসার এবং দেশকে অপমান করে এমন পোস্টগুলি দেখেও শীর্ষস্থানীয় মুসলিম নেতাদের কেউ সাড়া দেননি। আমি এমন ধর্মের অংশ হতে পারি না।
আকবর এও বলেন যে, তিনি এবং তার স্ত্রী হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত হবেন এবং সরকারী নথিতে ধর্মীয় তথ্য রূপান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু করবেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, তিনি তাঁর দুই মেয়েকে ধর্মান্তরিত করতে বাধ্য করবেন না। চলচ্চিত্র নির্মাতা বলেন, 'এটি তাদের পছন্দ এবং আমি তাদের সিদ্ধান্ত নিতে দেব।'
উল্লেখ্য, আলী আকবর ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য কমিটির সদস্য ছিলেন। দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে অক্টোবরে পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
No comments:
Post a Comment