নাগাল্যান্ডের মোন জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী নিফিউ রিও পুরো বিষয়টির উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং শান্তির আবেদন জানিয়েছেন। গোলাগুলির পর থেকেই ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সূত্রের খবর, ঘটনাটি ঘটে যখন বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী একটি পিক-আপ ট্রাকে করে তাদের বাড়িতে ফিরছিলেন। সেই সময় লোকদের শবদেহ দেখে ক্ষোভে গ্রামবাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহতও হয়েছেন অনেকে। যদিও, প্রশাসনের তরফে মুখ্যমন্ত্রী নিফিউ রিও এখন পুরো বিষয়টির উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জনগণের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে রবিবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ট্যুইট করেছেন। তার ট্যুইটে উল্লেখ রয়েছে, 'সোমের ওটিং গ্রামে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা এবং আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।' নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, 'আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।' একই সঙ্গে তিনি বলেন যে, 'উচ্চ পর্যায়ের এসআইটি বিষয়টি তদন্ত করবে এবং আইন অনুযায়ী বিচার হবে। আমি সব মহলের কাছে শান্তির আবেদন জানাচ্ছি।'
একইসঙ্গে এই গোটা ঘটনায় সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'বিক্ষুব্ধ জনতা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালায়, এতে বহু সেনা আহত হয়। পুলিশ জানিয়েছে যে, তারা প্রকৃত ঘটনাটি কী সেই বিষয়ে জানতে তদন্ত করছে। এই বিষয়ে, একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন যে, মৃতের সঠিক সংখ্যা এখনও জানা যায়নি, কারণ ১১ জন ঘটনাস্থলেই মারা যায় এবং গুরুতর আহত বেশ কয়েকজন প্রতিবেশী রাজ্য আসামের একটি হাসপাতালে প্রাণ ত্যাগ করেন।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, 'ঘটনাটি ঘটে ওটিং এবং তিরু গ্রামের মধ্যে, যখন কয়েকজন দিনমজুর শনিবার সন্ধ্যায় একটি পিক-আপ ভ্যানে করে কয়লা খনি থেকে বাড়ি ফিরছিল। নিষিদ্ধ সংগঠন NSCN(K)- এর ইয়ুং ওং গোষ্ঠীর জঙ্গিদের গতিবিধির তথ্য পাওয়ার পরে ওই এলাকায় কর্মরত সেনা কর্মীরা গাড়িতে গুলি চালায় বলে, তাদের অভিযোগ।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও এত মানুষের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং ট্যুইট করেছেন, "নাগাল্যান্ডের ওটিং- এর দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় দুঃখিত। যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। রাজ্য সরকার গঠিত একটি উচ্চ-স্তরের এসআইটি দল ঘটনার তদন্ত করবে, যাতে শোকাহত পরিবারগুলোকে ন্যায়বিচার দেওয়া যায়।”
No comments:
Post a Comment