নির্বাচনের পর থেকেই রাজ্য বিজেপিতে একের পর এক ধস নেমেছে। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে দলে যে চিঁড় ধরেছিল, সেটাই এখন চওড়া ফাটলে পরিণত হচ্ছে। সদ্য বিজেপির রাজ্য কমিটি গঠিত হয়েছে। আর তারপরেই পদ্ম শিবিরের নেতা-কর্মীদের মাঝের অসন্তোষ আবারও প্রকাশ্যে। একে একে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়ছেন বিজেপি বিধায়করা। আর এই সুযোগেই বিজেপিকে এক হাত নিয়েছেন বিজেপি থেকে তৃণমূলে আসা বাবুল সুপ্রিয়ো।
সদ্য বিজেপির রাজ্য কমিটি গঠিত হয়েছে। এর পরেই অসীম সরকার, অম্বিকা রায়, সুব্রত ঠাকুর, মুকুটমণি অধিকারী এবং অশোক কীর্তনিয়া বিজেপি বিধায়কদের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ত্যাগ করেছেন। তাদের অভিযোগে যে, মতুয়াদের কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব দেওয়া হয়নি। এই ঘটনা ঘটেছে বড়দিনের দিন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পদ্ম শিবিরকে উদ্দেশ্য করে বাবুল সুপ্রিয়ো লিখেছেন তা হল নিম্নরূপ,
'নিজগুনে' পরের পর উইকেট পড়ছে বিজেপির | ''আজ আরও পাঁচটি গেল মনে হচ্ছে | শিববাবু শুনলাম সব শুনে কৈলাশে গেছেন | আসল বাঙালি কাঁকড়াদের খুঁজিয়া পাইবার একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্টান - মুরলীধর লেন |"
এদিকে বিধানসভায় বিজেপি সংসদীয় দলের চিফ হুইপ মনোজ টিগ্গা বিধায়কদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে, তিনি বলেছেন যে, তিনি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ-পরিত্যাগকারী দুই বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া এবং সুব্রত ঠাকুরের সাথে কথা বলেছেন। এ নিয়ে সংসদীয় স্তরে আলোচনা হবে বলে দাবী মনোজের। রাজ্য স্তরেও আলোচনা হতে পারে।
তিনি আরও দাবী করেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমনটি হয়েছে। বিধায়করাও ভুল বুঝেছেন। ২০১৯ এবং ২০২১ নির্বাচনে মতুয়া ভোট বিজেপিকে বনগাঁ উত্তর ও দক্ষিণ সহ প্রায় ছয়টি আসনে জয়ী হতে সাহায্য করেছে। তা সত্ত্বেও, একজনের মালিকানা এখনও গড় ব্যক্তির নাগালের বাইরে। শোনা যাচ্ছে, দিল্লীতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। তবে বিজেপির অন্দরে অসন্তোষের আগুন যে কমছে না তা স্পষ্ট।
এমতাবস্থায় বাবুল সুপ্রিয়োর এই ট্যুইট যেন আগুনে ঘি দেওয়ার কাজ করেছে। সব মিলিয়ে, এই ঘটনা ঘিরে শীতের মরসুমেরও উত্তাপ বেড়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে।
No comments:
Post a Comment