সিডিএসের হেলিকপ্টারকে নিশানা করা LTTE-এর রণনীতির অংশ হতে পারে, দাবী অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার সুধীর সাওয়ান্তের। ব্রিগেডিয়ার সুধীর সাওয়ান্ত সেনাবাহিনীতে 35 বছর কাজ করেছেন। LTTE ক্যাডার IED বোমা প্লান্ট করায় সিদ্ধহস্ত। এছাড়া দেশের সেনা সর্বাধিনায়ককে হত্যা করার উদ্দেশ্যও LTTE-এর রয়েছে।
সুধীর সাওয়ান্ত দাবী করেছেন যে, NIA-কে এই ভয়াবহ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার তদন্ত করা উচিৎ।
ব্রিগেডিয়ার সাওয়ান্তের মতে, যে কোনও বিমান বা হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার পেছনে ৩টি কারণ থাকে। প্রথম- প্রযুক্তিগত ত্রুটি, দ্বিতীয়- পাইলটের ত্রুটি এবং তৃতীয়- বোমা প্লান্ট ও বিস্ফোরণ। প্রথম উভয় ক্ষেত্রেই পাইলট এবং এয়ার কন্ট্রোলের মধ্যে যোগাযোগ হয়। পাইলট সাহায্যের জন্য ডাকেন এবং এই সমস্ত কথোপকথন ব্ল্যাক বক্সে রেকর্ড করা হয়। এখন ব্ল্যাক বক্সও পাওয়া গেছে। তাই এটা যদি শুধু দুর্ঘটনা হয়, সে তথ্যও বেরিয়ে আসবে।
তৃতীয় সম্ভাবনা হল হেলিকপ্টারটিতে বোমা রেখে বিস্ফোরণ ঘটানো হতে পারে। এক্ষেত্রে পাইলট এবং এয়ার কন্ট্রোলের মধ্যে কোনও যোগাযোগ থাকে না এবং সবকিছু হঠাৎ করেই ঘটে। যেহেতু এই এলাকাটি LTTE-এর শক্ত ঘাঁটি, তাই এই হামলার পিছনে LTTE-র স্লিপার সেলের হাত থাকতে পারে বলে জোরালো আশঙ্কা রয়েছে৷
যে এলাকায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে সেটিও বীরাপ্পনের এলাকা। এছাড়াও LTTE -এর শক্ত ঘাঁটি। উটি, কোয়েম্বাটুর, মেটিউপালনের পুরো জঙ্গলই বীরাপ্পানের এলাকা হয়ে গেছে। ব্রিগেডিয়ার সাওয়ান্ত বলেন, 'আমি একজন কমান্ডো প্রশিক্ষক ছিলাম এবং LTTE-এর সাথে আমাদের একটি এনকাউন্টারও হয়েছিল, তাই আমরা LTTE-এর সমস্ত গতিবিধি জানি৷ এই হেলিকপ্টারটি যেভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে ঠিক সেভাবেই তার আক্রমণের ধরন।
'LTTE দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওপর খুবই ক্ষুব্ধ। ভারত LTTE-কে ধ্বংস করে জাফনা থেকে তামিলনাড়ু পর্যন্ত তার নেটওয়ার্ক ভেঙে দেয়। LTTE-এর বাকি নেতৃত্ব জড়িত থাকতে পারে। এমনকি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ISI-ও এই হামলায় জড়িত থাকতে পারে। ISI এবং LTTE একসঙ্গে এটি করতে পারে।
উল্লেখ্য, বুধবার তামিলনাড়ুর কুন্নুরে একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় দেশের প্রথম সিডিএস জেনারেল বিপিন রাওয়াত, তার স্ত্রী মধুলিয়া রাওয়াত এবং 11 জন সেনা কর্মী ও অফিসার প্রয়াত হন। এই দুর্ঘটনা ঘিরে অনেক রকম দাবী করা হচ্ছে। এরই মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার সুধীর সাওয়ান্ত এই ঘটনার পেছনে LTTE-র হাত থাকতে বলে দাবী করলেন।
No comments:
Post a Comment