মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের 'ভারতে শিশু নির্যাতন' সমীক্ষা অনুসারে, ভারতে 53.22 শতাংশ শিশু এক বা একাধিক ধরণের যৌন নির্যাতন এবং হয়রানির শিকার হয়েছে। এমতাবস্থায় কে বলতে পারে আমার বাড়িতে শিশুরা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়নি।
ভারতে বিদ্যমান আইনী বিধান অনুযায়ী, POCSO, 'একটি শিশুকে বেআইনিভাবে স্পর্শ করা, তার সামনে অন্যায় কাজ করা এবং তাকে অশ্লীল জিনিস দেখানোও এই আওতাভুক্ত। এটি শিশুর সাথে যে কোনও জায়গায় ঘটতে পারে। বাড়ি, স্কুল, পাড়া ইত্যাদি। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা সব সময়ই পরিবারের ঘনিষ্ঠ। যাদের আনাগোনা ঘরে থাকে এবং বাড়ির বড়দেরও তাদের ওপর কুসংস্কার থাকে। শিশুরাও তার ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। তারা সন্তানের সাথে এত খুশি বলে মনে হচ্ছে যে তাদের উদ্দেশ্যগুলি এত খারাপ তা বোঝা যায় না। বর্তমান সময়ে বাবা-মায়েরা অনেকটাই চাকরের সাহায্যে সন্তানদের ছেড়ে চলে যেতে শুরু করেছে। শুধু চাকরদের বিরুদ্ধে অনেক ধরনের গল্প শোনা যায়।
প্রথম কথা হলো যখন শুধু আত্মীয়, বাবা, ভাই, শিক্ষক, আত্মীয়রা শোষণ করছে। তাহলে প্রশ্ন জাগে শিশুরা এতদিন নিরাপদ কোথায়? শিশুদের সুরক্ষা এবং যত্নের জন্য ভারতে অনেক প্রতিষ্ঠান, কেন্দ্র এবং বাড়ি রয়েছে, তবে তাদের বেশিরভাগই নিবন্ধিত নয়। এসব নিরাপত্তা কেন্দ্রেও শিশুরা নিরাপদ নয়।
যে শিশু যে কোনো রূপে যৌন হয়রানির শিকার। এ বিষয়ে কারো সঙ্গে খোলামেলা কথাও বলতে পারেননি তিনি। তাই শিশুকে এদিক দিয়ে শিক্ষিত করা দরকার, যাতে শিশু তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা অন্যদের সামনে খুলে বলতে পারে।
যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুরা খুব ভয় পায় বা খুব রাগান্বিত এবং খিটখিটে হয়ে যায়। কিছু শিশু খুব লাজুক হয়ে ওঠে। আমি কারো সাথে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করি। কিছু শিশুও খুব অসভ্য হয়ে ওঠে। অনেক শিশু বিষণ্ণতার শিকার হয়ে মানসিক রোগীর মতো আচরণ শুরু করে। এ ধরনের শিশুরা সহজেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে।
শিশু নির্যাতন, একটি অপরাধ, এমন সব কারণে এমন আচরণে জড়িত হতে পারে যা একটি শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা করে। তাই এ দিকে সবাইকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। যাতে শুধুমাত্র রক্ষক শিশুর ভক্ষক না হয়ে যায়।
শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সুষ্ঠু ও ভারসাম্যপূর্ণ বিকাশের উপর সমগ্র সমাজ ও দেশের পরিবেশের রূপরেখা নির্ধারিত হয়। অতএব, পিতামাতা এবং পরিবারের প্রথম কর্তব্য হয়ে ওঠে যে শিশুদের লালন-পালন ও নিরাপত্তাকে হালকাভাবে নেওয়া উচিৎ নয়। বরং সন্তানের সঠিক ও নিরাপদে লালন-পালন করা যে কোনো পিতা-মাতার প্রথম দায়িত্ব এবং তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে তা করা উচিৎ।
No comments:
Post a Comment