শিশুরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়, যেমন শারীরিক শাস্তি, মানসিক নির্যাতন, আপত্তিকর আচরণ, অবহেলা, শিশু যৌন নির্যাতন ইত্যাদি।
উপেক্ষা করুন...
অভিভাবকরা খুব কমই ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের সন্তানদের অবহেলা করেন। কিন্তু ঘরের পরিস্থিতি যেমন- আর্থিক অসুবিধা, স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক তিক্ত সম্পর্ক, স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু বা অন্যান্য ধরনের অসুবিধার মতো অনেক কারণ সন্তানের প্রতি অবহেলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটি শিশুর উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এ ধরনের অবহেলাপূর্ণ লালন-পালন শিশুর ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। শিশুরা শৈশবে যে পরিবেশে বাস করে সেখান থেকেই সামাজিক আচরণ সম্পর্কে শেখে। তারা যদি বাড়িতে সবসময় অবহেলিত হয়, অন্যকে উপেক্ষা করা শিশুর জন্য গ্রহণযোগ্য সামাজিক আচরণের অংশ হয়ে যায়। গবেষণা দেখায় যে সঠিক সামাজিক মিথস্ক্রিয়া না থাকা সামাজিক বিচ্ছিন্নতার দিকে পরিচালিত করতে পারে। অসামাজিক আচরণ প্রদর্শন করতে পারে এবং সামাজিকভাবে উদ্বিগ্ন হতে পারে।
মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের 'ভারতে শিশু নির্যাতন' সমীক্ষা অনুসারে, ভারতে 53.22 শতাংশ শিশু এক বা একাধিক ধরণের যৌন নির্যাতন এবং হয়রানির শিকার হয়েছে। এমতাবস্থায় কে বলতে পারে আমার বাড়িতে শিশুরা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়নি।
শিশু নির্যাতন, একটি অপরাধ, এমন সব কারণে এমন আচরণে জড়িত হতে পারে যা একটি শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা করে। তাই এ দিকে সবাইকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। যাতে শুধুমাত্র রক্ষক শিশুর ভক্ষক না হয়ে যায়।
শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সুষ্ঠু ও ভারসাম্যপূর্ণ বিকাশের উপর সমগ্র সমাজ ও দেশের পরিবেশের রূপরেখা নির্ধারিত হয়। অতএব, পিতামাতা এবং পরিবারের প্রথম কর্তব্য হয়ে ওঠে যে শিশুদের লালন-পালন ও নিরাপত্তাকে হালকাভাবে নেওয়া উচিৎ নয়। বরং সন্তানের সঠিক ও নিরাপদে লালন-পালন করা যে কোনো পিতা-মাতার প্রথম দায়িত্ব এবং তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে তা করা উচিৎ।
No comments:
Post a Comment