ঔষধিগুণের কারণে চাহিদা বাড়ছে ওলের - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 11 December 2021

ঔষধিগুণের কারণে চাহিদা বাড়ছে ওলের


 পাকুড় জেলার আমরাপাড়া ব্লকের জঙ্গলে ওল (জিমিকন্দ) প্রজাতির অ্যামোরফোফালাস পেওনিফোলিয়াস পাওয়া গেছে।  এটি ঔষধি গুণে পরিপূর্ণ।  এর আগে সাঁওতাল বনাঞ্চলে শুধুমাত্র আমরফোফালাস বালবিফার প্রজাতির ওল পাওয়া যেত।  সাঁওতালেও এই প্রজাতির মিলন থেকে এটা স্পষ্ট যে এখানকার মাটি পেওনিফোলিয়াসের জন্য অনুকূল।  এটি এখানেও চাষ করা যায়।  এতে কৃষকদের অর্থনীতির উন্নতি হবে।  

 পাকুড়ের কেকেএম কলেজের উদ্ভিদবিদ অধ্যাপক প্রসন্নজিৎ মুখার্জি, যিনি সাঁওতাল ভাষায় এই প্রজাতিটিকে শনাক্ত করেছিলেন, বলেছেন যে আগে এই প্রজাতিটি শুধুমাত্র ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে পাওয়া যেত। তবে ঝাড়খণ্ডে এখনও এর চাষ শুরু হয়নি৷  এটি শুধুমাত্র দক্ষিণ ভারতে চাষ করা হচ্ছে।

 আর্থ্রাইটিস এবং অ্যাজমা থেকে টিউমার নির্ণয়ে কার্যকর -

 বিজ্ঞানী মুখার্জি জানান, আমরাপাড়ায় পাওয়া এই জাতের ওল অন্যান্য প্রজাতির জিমিকন্দের চেয়ে বেশি শক্তিশালী ও ওষুধি।  এতে অনেক ধরনের ভিটামিন ছাড়াও ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাসের মতো উপাদান পাওয়া যায়।  এটি বাত, টিউমার, পেটে ব্যথা এবং হাঁপানির রোগ নির্ণয়ের জন্য ওষুধ তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। 

 গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এতে পাওয়া অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মানবদেহের রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়ায়।  আজ করোনার মতো মহামারিতে  বিশ্ব কাঁপছে, এমন পরিস্থিতিতে এটি খেলে করোনাকে হারানোর শক্তি জোগাবে।  কারণ করোনা নিজেই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আক্রমণ করে। 

 কৃষকরা এই ওলের চাষ করলে তাদের আয় বাড়বে।  তিনি জানান, দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যে এর চাষ হয়।  ঔষধি গুণের কারণে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

 পরীক্ষার পর কৃষকদের জন্য সুপারিশ করা হবে -

 পাকুড়ের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানী বিনোদ কুমার জানান, এই প্রজাতির সম্পর্কে কথা হবে  শনাক্তকারী অধ্যাপক ড.প্রসন্নজিৎ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে।  মহেশপুর কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে এই প্রজাতির উপর পরীক্ষা করা হবে।  ফলপ্রসূ ফল পেলে কৃষকরা এর চাষে উদ্বুদ্ধ হবে।  এতে দুই বছর সময় লাগবে।  বর্তমানে বিজ্ঞান কেন্দ্র কৃষকদের গজেন্দ্র প্রজাতির ওল চাষের পরামর্শ দিচ্ছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad