পিরিয়ড, এককথায় মাতৃত্বের অহঙ্কার। প্রতিটি মহিলার জীবনেই একটি নির্দিষ্ট সময় পর এটি আসে। যদিও পিরিয়ড আসা খুবই সাধারণ ব্যাপার, কিন্তু যখন প্রথমবার এটি আসে তখন মেয়েরা একটু চিন্তিত হতে পারে। এমতাবস্থায়, একজন মায়ের দায়িত্ব তার মেয়েকে পিরিয়ডের জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত করা। একটি মেয়ের প্রথমবারের মতো পিরিয়ড হলে তার শরীর ইতিমধ্যেই সংকেত দিতে শুরু করে। মেয়েটির শরীরে কিছু বিশেষ পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে, যার ভিত্তিতে আপনি অনুমান করতে পারেন যে, তার শীঘ্রই মাসিক হবে। শরীরের এই পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক-
স্তনের আকার বৃদ্ধি
যখন কোনও মেয়ের স্তনের আকার হঠাৎ বাড়তে শুরু করে, তখন বুঝবেন বছর দুয়েকের মধ্যেই তার পিরিয়ড আসতে শুরু করবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়েদের স্তন ফুটতে ও পূর্ণ আকারে উঠতে অন্তত চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। আপনি যদি আপনার মেয়ের মধ্যে এই পরিবর্তনগুলি দেখেন তবে আগে থেকেই সতর্ক হন। তাকে পিরিয়ড সম্পর্কে অবহিত করা শুরু করুন।
সাদা স্রাব হওয়া
মাসিক শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগে, মেয়েদের যোনি থেকে স্রাব হতে শুরু করে। এই স্রাব সাদা বা হলুদ রঙের হতে পারে। এটি পিরিয়ড শুরু হওয়ার আরেকটি লক্ষণ। এমতাবস্থায় আপনার মেয়ের সাথে কথা বলুন এবং কোন প্রকার গাফিলতি করবেন না।
এই বয়সে পিরিয়ড আসে
মেয়েদের পিরিয়ড কখন শুরু হবে তার নির্দিষ্ট বয়স বলা সম্ভব নয়। একেক জনের ক্ষেত্রে সময় ভিন্ন ভিন্ন হয়। সাধারণত যখন একটি মেয়ের বয়স 12 থেকে 13 বছর হয়, তখন তার মাসিক শুরু হয়। কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে, এই পিরিয়ড তাড়াতাড়িও চলে আসে। আবার কারও কারও 16 বছর বয়সেও পিরিয়ড হয়। এটি আপনার খাদ্য এবং জীবনধারার ওপরেও নির্ভর করে।
মায়েদের যা খেয়াল রাখা উচিৎ
12-13 বছরের মেয়ে যখন প্রথমবার তার যোনি থেকে রক্ত বের হতে দেখে, তখন সে ঘাবড়ে যায়। সে বুঝতে পারে না, কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাবে। তাই মাসিক শুরু হওয়ার আগেই মা এই বিষয়ে কথা বলা প্রয়োজন। মেয়েকে আগে থেকে সব খুলে খুলে বললে, পিরিয়ড এলে সে খুব একটা ধাক্কা খাবে না।
মাসিকের সময় আপনি যে সমস্যার সম্মুখীন হন সে সম্পর্কে তার সাথে কথা বলুন। স্যানিটারি প্যাড কী, কীভাবে পরতে হয়, তাও বলুন। মেয়েকে শুধুমাত্র স্বাস্থ্যকর খাবার দিন, জাঙ্ক ফুড থেকে দূরে থাকুন। মেয়েকে শারীরিকভাবে সক্রিয় হতে বলুন।
No comments:
Post a Comment