মানুষের জীবন বাঁচাতে, সরকার আসামে মৌমাছির বাহিনী মোতায়েন করছে, যাতে হাতি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। শুধু মানুষ নয়, হাতি যদি মানুষকে নিশানা না করে, তাহলে তারা নিজেরাও নিরাপদ থাকতে পারবে। খাদি ইন্ডিয়া আবিষ্কার করেছে এই অনন্য সূত্র। আপনি হয়তো ভাবছেন যে, কীভাবে মৌমাছিরা হাতির হাত থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে!
আসলে খাদি ইন্ডিয়ার এই প্রকল্পের পিছনে সম্পূর্ণ বিজ্ঞান কাজ করে। খাদি ইন্ডিয়া আসামের গোয়ালপাড়া জেলার মরনোই গ্রাম থেকে এই প্রকল্প শুরু করেছে, এই গ্রামটি হাতির আক্রমণের শিকার হয়েছে এবং বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে রি-হ্যাব।
আসামের বন দফতরের সহযোগিতায় খাদি ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান বিনয় কুমার সাক্সেনা এই প্রকল্পটি শুরু করেছেন। এই প্রকল্পের আওতায় গ্রামের চারপাশে মৌমাছির বাক্স রাখা হবে।
যেখান থেকে হাতিরা গ্রামের দিকে আসে সেই গ্রামের চারপাশের বনের রাস্তাগুলিতে মৌমাছি পালনের বাক্স স্থাপন করা হবে। এই সমস্ত বক্সগুলি একটি তারের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হবে, যদি হাতির পাল বা একা হাতিও সেই পথ দিয়ে লোকালয়ের দিকে এগিয়ে আসে, তবে তারের সংস্পর্শে আসার সাথে সাথে বক্সে আটকে থাকা মৌমাছিগুলি সক্রিয় হয়ে উঠবে।
উত্যক্ত করলে মৌমাছি কাউকে আক্রমণ করতেই দ্বিধা করে না। বিশেষ করে হাতিরা মৌমাছিকে খুব ভয় পায় কারণ মৌমাছির ঝাঁক হাতির সংবেদনশীল অংশে হুল ফোটায়। মৌমাছিরা হাতির শুঁড়ের ভেতরের অংশে এবং তার চোখকে আক্রমণ করে যা খুবই সূক্ষ্ম এবং এখানে কামড়ানোর কারণে হাতিরও অনেক ব্যথা হয়। এমনকি মৌমাছির ঝাঁকের যে শব্দ, তাও হাতির পক্ষে সহ্য করা খুব কঠিন।
এই প্রকল্পের আওতায় দুটি গ্রামের বনের রাস্তায় ৩৩০টি মৌমাছির বাক্স স্থাপন করা হবে। এই বাক্সগুলি ৩৩ জন কৃষক ও যুবকের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে, যারা মৌমাছি পালন করে শুধু আর্থিকভাবে লাভবান হবে না, হাতির আক্রমণ থেকেও রক্ষা পাবে। উল্লেখ্য, অবস্থা এমন হয়েছে যে, হাতির আক্রমণে মরনই ও দহিকাটা গ্রামের কৃষকরা চাষাবাদ ছেড়ে দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, হাতির আক্রমণ এড়াতে কর্ণাটকে এমন একটি প্রকল্প ইতিমধ্যেই শুরু করা হয়েছিল, যা অত্যন্ত সফল হয়েছিল। প্রকল্পটি চালু হওয়ার মাত্র ৬ মাসের মধ্যে, হাতির আক্রমণ ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। খাদি ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান বিনয় কুমার সাক্সেনার মতে, তিনি মনে করেন যে, হাতির এই আক্রমণ প্রতিরোধে আসামেও বি-বক্সগুলি খুব কার্যকর প্রমাণিত হবে এবং এখানকার কৃষকরা হাতির আক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে সক্ষম হবে।
No comments:
Post a Comment