প্রদীপ ভট্টাচার্য, প্রেসকার্ড নিউজ: অ্যালোভেরার নাম নিশ্চয় সকলেই শুনেছেন। এটি হল একটি রস জাতীয় ভেষজ উদ্ভিদ। এর আদি নিবাস আফ্রিকার মরুভূমি অঞ্চল ও মাদাগাস্কার। একে আয়ুর্বেদিক ঔষধ হিসাবেও ব্যবহার করা হয়।
অ্যালোভেরার অন্য নাম ঘৃতকুমারী। ঘৃতকুমারী বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের জন্য খুবই জনপ্রিয়। এতে ভিটামিন এ, বি, বি ওয়ান, বি টু, বি সিক্স, সি, ই, ফলিক অ্যাসিড, কোলন ইত্যাদি রয়েছে।
নিয়মিত ঘৃতকুমারীর রস সেবন শরীরের শক্তি যোগান সহ ওজনকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। অর্শরোগে ৫ থেকে ৭ গ্রাম ঘৃতকুমারীর শাঁস ঘিয়ের সাথে মিশিয়ে সকাল ও বিকাল দুবার খেলে অর্শরোগ থেকে উপকার পাবেন।
যাদের শুক্রাণু পাতলা তারা যদি ঘৃতকুমারীর শাঁস চিনির সাথে মিশিয়ে শরবত করে খান তাহলে পাতলা শুক্রাণুর অকারণে স্খলন বন্ধ হবে। ঘৃতকুমারীর রস হাড়ের সন্ধিকে সহজ করে ও দেহে নতুন কোষ তৈরীতে সাহায্য করে।
এটি শরীরের বিভিন্ন প্রদাহ দূর করতেও কাজ দেয়। আপনার যদি মেছতার সমস্যা থাকে তাহলে ঘৃতকুমারীর রস জলের সাথে মিশিয়ে দৈনিক দুবার করে খেলে অথবা ঘৃতকুমারীর পাতা, মধু ও শশার কুচি মাস্কের মতো করে মেছতার ওপর লাগিয়ে রাখলে উপকার পাবেন।
অনিয়মিত বা অস্বাভাবিক মাসিক হলে ঘৃতকুমারী পাতার শাঁসকে ভালোভাবে চটকে পাতলা আবরণ তৈরি করে সেটিকে শুকিয়ে নিয়ে জলে ভিজিয়ে মাসিকের সময় নিয়মিত সকালে খালি পেটে খেলে সমস্যা দূর হয়।
ঘৃতকুমারীর রস শরীরে সাদা ব্লাড সেল গঠন করে, যা ভাইরাসের সাথে লড়াই করে।
যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তারা সকালে খালি পেটে ঘৃতকুমারী পাতার শাঁস ঠান্ডা জলের সাথে মিশিয়ে চিনি দিয়ে শরবত করে খেলে উপকার পাবেন। শরীরে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতেও এটি সাহায্য করে।
চুলের সমস্যা দূর করতে ঘৃতকুমারীর জুড়ি নেই। এর শাঁস চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি, চুল পড়া দূর, খুসকি প্রতিরোধ ইত্যাদিতে দারুণভাবে কাজ দেয়। অ্যালোভেরা জেল মেহেন্দি পাতার সাথে মিশিয়ে চুলে লাগালে খুসকি দূর হয়, চুল পড়া কমে ও নতুন চুল গজায়।
শ্যাম্পু করার পর অ্যালোভেরা জেল চুলের আগা থেকে গোঁড়া পর্যন্ত ম্যাসাজ করুন বা অন্য কোনো কন্ডিশনারের সাথে মিশিয়ে নিয়মিত লাগান, চুল ঘন, উজ্জ্বল ও চকচকে হবে।
No comments:
Post a Comment