কুরুক্ষেত্রের ময়দানে কৌরব ও পাণ্ডবদের বাহিনী মুখোমুখি দাঁড়ালে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে গীতা প্রচার করেছিলেন। তখন অর্জুন মোহভঙ্গ হয়ে অস্ত্র ত্যাগ করেন।
অতঃপর গীতার মাধ্যমেই ভগবান শ্রী কৃষ্ণ বিশ্বকে ধর্মানুসারে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, ভগবান শ্রী কৃষ্ণ কালযুগের মানদণ্ডকে মাথায় রেখে এটি দেওয়া হয়েছে। গীতা জয়ন্তী (১৪ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার) উপলক্ষে আমরা আপনাকে গীতার কিছু নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা সূত্রের কথা বলছি, যা নিম্নরূপ।
১
ত্রিবিধম্ নরকস্যেদম্ দ্বারম্ নাসনমাত্মনঃ। কামঃ ক্রোধস্তথা লোভস্ত্রমদেত্রয়ম্ ত্যজেত। অর্থ- কাম, ক্রোধ ও লোভ। নরকের এই তিন প্রকারের দরজাই আত্মার বিনাশকারী অর্থাৎ অধঃপতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তাই এই তিনটি বর্জন করা উচিৎ।
ব্যবস্থাপনা সূত্র
কামনা, ক্রোধ ও লোভ সকল অনিষ্টের মূল কারণ। তাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাদেরকে নরকের দ্বার বলেছেন। যে কোনো ব্যক্তির মধ্যে এই তিনটি দোষ আছে, সে সর্বদা অন্যকে কষ্ট দিয়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধিতে নিয়োজিত থাকে। আমরা যদি কোন লক্ষ্য অর্জন করতে চাই তবে আমাদের এই তিনটি ত্রুটি চিরতরে ত্যাগ করা উচিত। কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত এই দোষগুলো আমাদের মনে থাকবে ততক্ষণ আমাদের মন তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হবে।
২
বিহায়া কামান ইয়াহ কর্বাণপুমাংশচরতি নিস্পৃঃ। নির্মো নির্হঙ্কর সা শান্তিমধিগছতি। অর্থ- যে ব্যক্তি সমস্ত কামনা-বাসনা ত্যাগ করে প্রেম ও অহংকার ব্যতীত কর্তব্য পালন করে, কেবল সে শান্তি পায়।
ব্যবস্থাপনা সূত্র
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, মনের মধ্যে কোন প্রকার কামনা-বাসনা রাখলে শান্তি পাওয়া যায় না। তাই শান্তি পেতে হলে প্রথমেই মানুষকে তার মন থেকে কামনা-বাসনা দূর করতে হবে। আমরা যে কাজই করি না কেন, আমরা আমাদের প্রত্যাশিত ফলাফলের সাথে লেগে থাকি। আমাদের পছন্দের ফলাফলের আকাঙ্ক্ষা আমাদের দুর্বল করে দেয়। তা না থাকলে ব্যক্তির মন আরও বিচলিত হয়। মন থেকে অনুরাগ বা অহংবোধ ইত্যাদি দূর করে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তবেই মানুষ শান্তি পাবে।
No comments:
Post a Comment