জেনারেল বিপিন রাওয়াত বিশ্বের চতুর্থ শক্তিশালী সেনার চিফ অফ ডিফেন্স। যার এক ইশারায় সাড়ে চোদ্দ লাখ সেনা শত্রুর ঘরে ঢুকে হামলা করতে পারে। এমন শক্তিশালী দেশের সেনাবাহিনীর চপার 10 মিনিটের নিশ্চিত যাত্রা করতে ব্যর্থ হল।
বিপিন রাওয়াতের মৃত্যুর পর প্রতিবেশী চীন পাকিস্তানের মতন দেশ খুশি কারণ চীনের লাইন অব কন্ট্রোল ক্রস করার ঘটনা, পাকিস্তানের জঙ্গিবাদ আর বাংলাদেশ ও নেপালের সেনার রণনীতি সম্পর্কে দক্ষতা ছিল। এমনকি বিগত তিন বছর ধরে চীন ও পাকিস্তান সীমান্ত সন্ত্রাসের গতি আটকে দেশকে রক্ষা করেছেন নিজের রণনীতি দিয়ে ।
বুধবার দুপুরে কুন্নুরে নীলগীরী পর্বতের চাবাগান এলাকায় ক্রাশ হয় Mi17V5চপারের। এলাকাটি এতটাই দূর্গম যে গ্রামবাসীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার করতে সময় লাগে এক থেকে দেড় ঘন্টা । যদি চপারটি মাত্র 5 মিনিট উড়তে পারত তাহলে ওয়েলিংটনের সেনা কলেজে পৌঁছে যেতেন প্রতিরক্ষা প্রধান সহ 14 জন সেনা আধিকারিক। এই সেনা কলেজেই পড়াশোনা করেছেন সিডিএস বিপিন রাওয়াত। বুধবার সেই কলেজেই লেকচার দিতে যাওয়ার সময় চপার ক্রাশ হয় এবং মৃত্যু হয় সিডিএস বিপিন রাওয়াতের।
এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হওয়া Mi17 সিরিজের চপার বিশ্বের 60 দেশ 12 হাজারের বেশি ব্যবহার করে। রাশিয়ার তৈরি এই চপারটি প্রতিকূল পরিবেশে অবতরণ করতে পারত। ল্যান্ডিং এর জন্য কোনও হ্যালিপ্যাড লাগত না। 13 হাজার কেজি ওজন বহন সক্ষম ছিল এই চপারটি।
ভারতের ইতিহাসে দেশের প্রথম সিডিএসকে চপার দূর্ঘটনায় মৃত্যু ঘিরে সামনে এল সেনাবাহিনীর বিমান ও চপার দুর্ঘটনার ষড়যন্ত্র।
1948 থেকে 2021 সাল পর্যন্ত 1751 টি সেনার বিমান ও চপার ক্রাশ হয়েছে। অর্থাৎ বছরে 24 টি ক্র্যাশ আর মাসে দুটি ক্রাশ ঘটনা ঘটেছে।
1994 থেকে 2014 সাল পর্যন্ত 294 টি চপার ও বিমান ক্র্যাশ হয়েছে। অর্থাৎ বছরে 20 বিমান এ চপার ক্রাশ হয়েছে। অথচ, বিশ্বের অন্যদেশে এমন পরিসংখ্যান নেই। ভারত চীন রাশিয়া সুখোই ব্যবহার করে। চীন রাশিয়ায় সুখোই ক্রাশ হয়েছে মাত্র দুটি সেখানে ভারতে 6টি ক্রাশ হয়েছে।
এবার আসি অত্যাধুনিক সুপার হারকিউলিস বিমানে। এই বিমানটি আমেরিকান সংস্থা এমন ভাবে তৈরি করেছে যাকে ল্যান্ডিং করতে রানওয়ে লাগেনা। সব পরিবেশেই ল্যান্ডিং করতে পারে। অথচ সেই সুপার হারকিউলিস বিমান 14 সালে ভারতে ক্র্যাশ হয় এবং 17 সালে ফের ক্র্যাশ হয়। ক্র্যাশের কারণ হিসাবে বলা হয় পাইলটের গাফিলতি আর যান্ত্রিক ত্রুটি ।
ভারতে প্রতিদিন বেসামরিক অর্থাৎ সাধারণ যাত্রী নিয়ে প্রতিদিন 4 থেকে 5 হাজার বিমান ওড়ে । সেখানে নানা কাজে বায়ু সেনা 200 বিমান ওড়ায়। দূর্ঘটনার পরিসংখ্যান বলছে, যাত্রী বিমানের তুলনায় সেনা বিমান ও চপার বেশি ক্রাশ হয়েছে দেশে। স্বাধীনতার 76 বছরে 95 ক্রাশ হয়েছে যাত্রীবাহী বিমান, সেখানে সেনার 1751 বিমান ও চপার ক্রাশ হয়েছে।
ক্রাশের ঘটনায় ভারতে এগিয়ে মিগ । 2012 পর্যন্ত 872 মিগ বিমানের মধ্যে 482টি ক্রাশ হয়েছে। তবুও এই বিমান সেনা ব্যবহার করছে কেন? তেমনি ভারতীয় বায়ু সেনার চপার ও বিমান কেন এত বেশি ক্রাশ হচ্ছে এর উত্তর নেই কারও কাছে।
No comments:
Post a Comment