'বেটা' এবং 'ডেল্টা'-এর পর বিশ্বে নতুন আতঙ্কের নাম 'ওমিক্রন'। ১৫ টি মিউটেশনে সক্ষম করোনা ভাইরাসের এই নতুন রূপটি ইতিমধ্যেই বিশ্বের অনেক দেশে পা রেখেছে। ভারতেও ওমিক্রন সংক্রমনের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সংক্রমণ (কোভিড-১৯) বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ রাজ্যগুলিকে চিঠি লিখে সতর্ক করেছেন।
মুখ্যসচিবকে পাঠানো চিঠিতে রাজেশ অনেক নির্দেশ দিয়েছেন। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, জেলা স্তরে ওমিক্রন প্রতিরোধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। কন্টেনমেন্ট জোন তৈরি করতে হলে হাসপাতালের পরিকাঠামো দেখতে হবে। এক সপ্তাহ ধরে পজিটিভিটির হার ১০ শতাংশের বেশি হলে বা ৪০ শতাংশ বেড অক্সিজেনে ভরে গেলে জেলা প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সংক্রমণ ঠেকাতে স্থানীয় পর্যায়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা দরকার।
যদিও রাজ্য সরকারগুলি ওমিক্রনের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে, কিন্তু কেন্দ্রের বক্তব্য যে করোনার ডেল্টা রূপকে অবহেলা করা উচিৎ নয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয় এই বৈচিত্র। এই মনোযোগ প্রয়োজন। টেস্টিং, ট্রেসিং, আইসোলেটিং ছাড়াও স্বাস্থ্যবিধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে কি না, মাস্কের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করতে হবে। জনবহুল এলাকায় ভিড় নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, 'ঝুঁকিপূর্ণ দেশ' থেকে আসা যাত্রীদের ওপর কড়া নজর রাখা দরকার। রাজ্যের আধিকারিকরা এয়ার ফ্যাসিলিটি পোর্টাল থেকে তাদের সম্পর্কে সমস্ত তথ্য পাবেন। করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাদিস মিললেই কোভিড পজিটিভ ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখতে হবে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি টিকাদান কর্মসূচি ত্বরান্বিত করারও পরামর্শ দেন।
যেসব জেলায় টিকাদানের হার জাতীয় হারের চেয়ে কম সেসব জেলায় বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব। কেন্দ্র টিকার দুটি ডোজ এর মধ্যে সময়সীমার কথা মাথায় রেখে দ্রুত টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। হাসপাতালের বেড, অক্সিজেনেরও খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজনে নাইট কারফিউ এবং বিয়েসহ সব সামাজিক অনুষ্ঠানে জমায়েত নিষিদ্ধ হতে পারে।
No comments:
Post a Comment