হিন্দু পুরাণে গঙ্গাকে একটি পবিত্র ও পরিত্রাণ নদী বলা হয়েছে। গঙ্গা নদী ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী। এটি শুধু একটি জল স্তোত্র নয়, গঙ্গাকে হিন্দু বিশ্বাসে "গঙ্গা মা" বলা হয়। এটি হিন্দুদের একটি শ্রদ্ধেয় নদী। হাজার হাজার বছর ধরে গঙ্গা নদীর তীরে হিন্দু সভ্যতার জন্ম ও বিকাশ ঘটেছে। গঙ্গা নদীর উৎপত্তি হিমালয় থেকে, কিন্তু আপনি কি জানেন, হিন্দু পুরাণ অনুসারে, গঙ্গা আগে ঈশ্বরের জগতে বাস করত। তাই হিন্দু পুরাণে একে দেব নদীও বলা হয়। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক কেন এবং কীভাবে ভগবান শিব গঙ্গা নদীকে তার চুলে বেঁধেছিলেন এবং কীভাবে গঙ্গা পৃথিবীতে এসেছিল।
ভগীরথের প্রচেষ্টায় গঙ্গা পৃথিবীতে এসেছিলেন।
হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, এক সময় এক মহান রাজা ভগীরথ ছিলেন। তিনি তার পূর্বপুরুষদের মুক্তির জন্য গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কিন্তু গঙ্গা দেবলোকে বাস করতেন এবং দেবলোক ছেড়ে যেতে চাননি, কিন্তু ভগীরথ তাকে খুশি করার জন্য কঠোর তপস্যা করেছিলেন। তাঁর তপস্যায় খুশি হয়ে মা গঙ্গা পৃথিবীতে আসতে রাজি হন। কিন্তু তিনি ভগীরথকে বললেন যে তার বেগ খুব দ্রুত এবং পৃথিবী তা সহ্য করতে পারবে না। পৃথিবীতে আসার সঙ্গে সঙ্গে সে তার বেগ নিয়ে রসাতলে যাবে। গঙ্গার পৃথিবীতে অবতরণ করার জন্য, ব্রহ্মাজি ভগবান ভোলেনাথকে খুশি করতে রাজা ভগীরথকে বলেছিলেন। তখন রাজা ভগীরথ ভগবান ভোলেনাথকে খুশি করার জন্য তপস্যা করেন। ভগবান ভোলেনাথ তাঁর তপস্যায় সন্তুষ্ট হন।
গঙ্গার স্পর্শে মোক্ষ লাভ
এখন সময় হয়েছে পৃথিবীতে মা গঙ্গার অবতরণের। তখন ভগবান ভোলেনাথ তার চুল খুলে গঙ্গার স্রোতকে চুলে বেঁধে গঙ্গার প্রবল গতি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করেন। সেই থেকে ভগবান ভোলেনাথের নাম হয় গঙ্গাধর। চুলে বাঁধার কারণে গঙ্গার বেগ কমে যায় এবং তিনি পৃথিবীতে রাজা ভগীরথকে অনুসরণ করেন। সেই থেকে মাতা গঙ্গা ভাগীরথী নামে পরিচিত হন। ভগীরথকে অনুসরণ করে গঙ্গা সেখানে পৌঁছে যান যেখানে ভগীরথের পূর্বপুরুষদের ভস্ম পড়ে ছিল। ভগীরথের পূর্বপুরুষরা গঙ্গার স্পর্শে মোক্ষ লাভ করেছিলেন। আজও সেই জায়গায় একটি মেলার আয়োজন করা হয়, এটি গঙ্গাসাগর নামে পরিচিত।
No comments:
Post a Comment