আসানসোলের একটি বিশেষ সিবিআই আদালত কয়লা মামলায় বিকাশ মিশ্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার বিকাশ মিশ্রের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নামঞ্জুর করেছে আদালত। কারণ, আসানসোল আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে থাকার সময় তাকে বারবার আদালতে হাজির হতে হলেও স্বাস্থ্যগত কারণে হাজির হননি বিকাশ। সে কারণেই এবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
কয়লা মামলার অভিযুক্ত বিকাশ মিশ্র প্রধান অভিযুক্ত বিনয় মিশ্রের ভাই। বিকাশ মিশ্রের অন্তর্বর্তী জামিন বাতিল চেয়ে এপ্রিলে আবেদন করেছিল সিবিআই। গত মার্চে মিশ্র অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছিলেন বিকাশ। তার আইনজীবীর অনুরোধ অনুযায়ী, বিকাশ মিশ্র লিভারের রোগে ভুগছেন। সে অসুস্থ। তাই তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন করেন। এরপর আদালত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
কিন্তু আদালতে হাজির হয়ে সিবিআইকে সহযোগিতা করার কথাও বলেছে আদালত। তবে এরপরে বারবার আদালতে হাজিরা এড়িয়ে যান বিকাশ। বুধবার ছিল যোগদানের শেষ দিন। কিন্তু বিকাশকে মিশ্র হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ কারণে তিনি হাজির হননি। এদিকে সিবিআই সূত্রে খবর, হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন সিবিআই আধিকারিকরা।
এর আগে বিকাশ মিশ্রকে দিল্লী থেকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। এরপর তিহার জেল থেকে সিবিআই তাকে হেফাজতে নেয়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর আসানসোল আদালতে জামিনের আবেদন করেন বিকাশের আইনজীবী। এরপর আদালতের নির্দেশে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান বিকাশ মিশ্র। বিকাশের বিরুদ্ধে সিবিআই অভিযোগ করেছে যে তিনি লালা ওরফে অনুপ মাজার থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেন এবং বিভিন্ন প্রভাবশালীকে টাকা দিতেন। তাই সিবিআইয়ের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন, তদন্ত সংস্থা দাবী করেছে।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকাশ মিশ্রকে যে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে সেখানে সিবিআই আধিকারিকরা কথা বলার কথা ভাবছেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়ার আগে সিবিআই কর্তৃপক্ষকে জানাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে সিবিআই।
অন্যদিকে, লালার ঘনিষ্ঠ কয়লা কেলেঙ্কারিতে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার চার কয়লা মাফিয়া ২৩ নভেম্বর জামিন পান। এর মধ্যে ছিলেন জয়দেব মণ্ডল, নরেন্দ্র খড়কা, নিরোদ বরণ মণ্ডল, গুরুপদ মাজি। আদালত সূত্রে খবর, জামিন পেলেও তিনি পশ্চিম বর্ধমানের বাইরে যেতে পারবেন না। পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। যখনই তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ডাকা হয়, তখনই তাদের তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়।
No comments:
Post a Comment