শিশুদের বিছানা ভেজানো একটি সাধারণ সমস্যা যা শীতের মৌসুমে আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় এই অভ্যাসের কারণ বাবা-মা তাদের বকাঝকা করে এবং তাদের আত্মবিশ্বাসও নড়বড়ে হতে থাকে।
যদি কিছু ঘরোয়া প্রতিকার চেষ্টা করেন, তাহলে সমস্যাও একদিনেই শেষ হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় বিছানা ভিজানোর কারণ সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত তরল জিনিস খাওয়া, মূত্রাশয় পুরোপুরি বিকশিত না হওয়া, মিষ্টি জিনিস অতিরিক্ত খাওয়া, ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা।
অনেক সময় দেখা যায় শিশুরা একটু বড় হয়েও বিছানা ভিজিয়ে রাখে। বিছানা ভিজানোর সমস্যা অনেক সময় মানসিক চাপের কারণ হতে পারে। এর কারণ পারিবারিক ইতিহাসও হয়ে থাকে আবার অনেক সময় চিকিৎসাজনিত কারণে শিশুরা মূত্রাশয়ে প্রস্রাব বন্ধ করতে পারে না।
এখানে আমরা আপনাকে এমন কিছু সহজ ঘরোয়া প্রতিকারের কথা বলছি, যা অবলম্বন করে আপনি শিশুদের বিছানা ভেজানো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।তাহলে চলুন প্রথমে জেনে নেওয়া যাক কেন এই সমস্যা হয়।
বিছানা ভিজানোর কারণ: বারবার বকাঝকা করার ফলে শিশুদের মনে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয় এবং ঘুমের মধ্যে আতঙ্কিত হয়ে বিছানা ভিজিয়ে দেয়।
অনেক সময় পারিবারিক ইতিহাসও কারণ হতে পারে।
মূত্রনালীর সংক্রমণের কারণে শিশুরা বিছানা ভেজায়।
শিশুদের মধ্যে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা।
সন্ধ্যার পর বেশি করে জল পান করলে।
বিছানা ভেজানোর ঘরোয়া প্রতিকার:শরীরে গরমের কারণে শিশু রাতে ঘুমানোর সময় প্রস্রাব করে না। এমন অবস্থায় শিশুর খাদ্যতালিকায় গুড় অন্তর্ভুক্ত করলে তাদের শরীর উষ্ণ থাকে এবং শিশু এই সমস্যা থেকে মুক্তি পায়। এ জন্য এক গ্লাস হালকা গরম দুধের সঙ্গে এক চামচ গুড় মিশিয়ে শিশুকে দিন।
ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ আমলা শিশুদের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি হজমশক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।
এটি মূত্রথলি বা মূত্রনালীর সংক্রমণ প্রতিরোধে উপকারী, যা ঘুমের মধ্যে হঠাৎ প্রস্রাব করার অসুবিধা থেকে মুক্তি দেয়। এক গ্লাস হাল্কা গরম জলে এক চা চামচ আমলকীর গুঁড়ো মিশিয়ে প্রতিদিন শিশুকে পান করুন।
আপেল সিডার ভিনেগার: প্রতিদিন এক গ্লাস জলে অ্যাপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে শিশুকে খাওয়ালে শিশুদের বিছানা ভিজানো বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়াও এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সর্দি-কাশি প্রতিরোধ করে।
অলিভ অয়েল: ভিটামিন এ এবং ওমেগা অ্যাসিড সমৃদ্ধ অলিভ অয়েল শুধু শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশেই উপকারী নয়, এটি শিশুদের বিছানা ভেজার অভিযোগও দূর হয়।
এ জন্য সামান্য অলিভ অয়েল নিয়ে হালকা গরম করে শিশুর পেটে সার্কুলার মোশন লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন। কিছু দিনের মধ্যেই পার্থক্য দেখা যাবে।
ঘুমানোর আগে প্রস্রাব করে ঘুমিয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করুন: শিশু যখনই ঘুমাতে যায়, তাকে রাতে ঘুমানোর আগে বাথরুমে গিয়ে প্রস্রাব করার অভ্যাস করুন। এতে করে বিছানা ভিজে যাবে না।
চাপ দেবেন না: অনেক সময় বাবা-মা তাদের সন্তানদের সব বিষয়ে বকাঝকা করেন বা রেগে যান। পরিবর্তে তাকে ভালবাসার সাথে বোঝান। যেদিন বিছানায় প্রস্রাব করবে না সেদিন তাকে একটি উপহার দিন। এটি তাদের চাপে ফেলবে না এবং শিশু চাপমুক্ত থাকবে।
No comments:
Post a Comment