এবার হাওড়া সদর বিজেপি সভাপতি সুরজিৎ সাহাকে বহিষ্কার করা নিয়ে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ। তার মতে, শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সুরজিতের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ বৃহস্পতিবার সকালে নিউটাউন ইকোপার্কে যান। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, “ঠিক আছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হলে ব্যবস্থা নেবে দল। শেষ হয়ে গেছে।” সামনে পূর্ণ ভোট, এরই মাঝে সামনে আসছে দলীয় কোন্দল। এমন পরিস্থিতিতে কি কোনও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন দিলীপ ঘোষ? এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দল একটা সিস্টেমে কাজ করে। হাজার হাজার কর্মী কাজ করছে। সমস্যা হতে পারে কারও কারও। এর আগেও অনেকে দল ছেড়েছেন। দিলীপ ঘোষ জানান, দল এটিকে খুব বেশি কিছু মনে করে না। যারা বুথ স্তরের কর্মী, তারাই লড়াই করে দলকে জিতিয়ে দেবে।
তবে দিলীপ ঘোষ স্বীকার করুক বা না করুক, শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে নতুন করে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে দলের মধ্যে। এমন কথা বলেই শাস্তি পেলেন হাওড়ার সুরজিত সাহা। দিলীপ ঘোষের মতে, অসন্তোষ আগে থেকেই রয়েছে। নির্বাচনের পর থেকে অনেকেই চলে গেছেন। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে পরিস্থিতি। কিন্তু কেন এই অসন্তোষ, ব্যাখ্যায় দিলীপ বলেন, দলের মধ্যেই সন্দেহের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকে এসেছে, আবার অনেকে চলে গেছে। সেই কারণেই অনেকে তাদের ধারণার ভিত্তিতে কথা বলছেন।
উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারী এবং সুকান্ত মজুমদার হাওড়া কর্পোরেশনের ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে দিন দুয়েক আগে হাওড়া জেলা নেতৃত্বের সাথে বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠক নিয়ে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাওড়া সদর বিজেপি সভাপতি সুরজিৎ সাহা-সহ অনেকেই। এর জেরে শুভেন্দু জেলার বিক্ষুব্ধ নেতৃত্বকে হুমকি দেন। রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের সামনে শুভেন্দু বলেন, "এই ঐক্য নিয়ে হাওড়ায় লড়বেন। একে অপরকে অপবাদ দেওয়া থেকে বিরত থেকে আগে ভোটের লড়াই লড়ুন।" এর পরেই, শুভেন্দু হাওড়া জেলা নেতৃত্বর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, হাওড়ার বিজেপি নেতৃত্ব তৃণমূল কংগ্রেসের অরূপ রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। পাল্টা সুর চড়ান সভাপতি। নারদা কাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুরজিৎ, এমনকি শুভেন্দু তৃণমূলে ফিরতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
No comments:
Post a Comment