বিজেপি থেকে হয়েছে। জল্পনাও শুরু হয়েছে, হয়তো তৃণমূলে যোগ দেবেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। আর এসবের মাঝেই অভিনেত্রীকে তৃণমূলে স্বাগত জানালেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র।
তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র বৃহস্পতিবার হাওড়ার চামরাইলে জগদ্ধার্থী পুজো উদ্বোধনে যান। এদিন ছিল জগদ্ধাত্রী পুজোর সপ্তম দিন। সেখানে বিজেপি থেকে শ্রাবন্তীর পদত্যাগ নিয়ে মুখ খুললেন বিধায়ক। তিনি বলেন, “আমি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখলাম শ্রাবন্তী বিজেপি ছেড়েছেন। তা দেখে আমার মনে হল–আজ মদন মিত্র যা ভাবছেন, বাকি রাজনীতিবিদরা অনেকক্ষণ পরে তা ভাবেন। "
শুধু তাই নয়, মদন মিত্র এদিন শ্রাবন্তীকে তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসে স্বাগত জানিয়েছেন। "খুব বেশি দেরি নয় - চলে আসুন, স্বাগতম।" দল ছাড়ার পর মদন মিত্র শ্রাবন্তীকে নিয়ে একটি ট্যুইটও করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, "ওহ লাভলি!" অন্য একটি ট্যুইটে আবার কামারহাটির বিধায়ক কেন্দ্রের নতুন কৃষি আইন নিয়েও সমালোচনা করেছেন।
বিজেপির শীর্ষ নেতারা অবশ্য শ্রাবন্তীর পদত্যাগ নিয়ে আক্রমণ করা বন্ধ করেননি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার দাবী করেছেন, বিজেপি করলে টলিউডে কাজ পাওয়া যায় না। তাই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। কিন্তু তৃণমূলের তারকা সাংসদ নুসরাতও এর পাল্টা জবাব দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এক সময় শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের (টিএমসি) ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তবে একুশের ভোটের (পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন) আগে গত ১লা মার্চ তিনি গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন। বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয় তাঁকে। পার্থ চ্যাটার্জির মতো হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা ছিলেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী। যদিও এই প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে বিজেপির মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকেই এর বিরোধিতা করেছিলেন, যদিও দল পাত্তা দেয়নি।
শ্রাবন্তীর হয়ে প্রচার করতে এসেছিলেন স্বয়ং অমিত শাহ। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। বিধানসভা নির্বাচনে পার্থ চ্যাটার্জির কাছে বিশাল ব্যবধানে হেরে যান শ্রাবন্তী। এরপর থেকে বিজেপির কোনও অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি অভিনেত্রীকে। অবশেষে বৃহস্পতিবার গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার বার্তা দিলেন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়।
No comments:
Post a Comment