সীমান্তের ওপার থেকে সন্ত্রাসবাদ পরিচালনার জন্য জাতিসংঘে পাকিস্তানকে সতর্ক করেছে ভারত। ভারত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে (UNSC) বলেছে যে, তারা পাকিস্তানের মদতপুষ্ট আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় ও নিষ্পত্তিমূলক পদক্ষেপ করতে থাকবে। ভারতীয় প্রতিনিধি আরও বলেন যে, কোনও অর্থবহ সংলাপের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা পাকিস্তানের দায়িত্ব যা শুধুমাত্র সন্ত্রাস, শত্রুতা এবং সহিংসতামুক্ত পরিবেশে পরিচালিত হতে পারে।
জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের কনসাল কাজল ভাট, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) বলেন, "ভারত পাকিস্তান সহ সমস্ত প্রতিবেশী দেশের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক চায় এবং যদি কোনও অমীমাংসিত সমস্যা থাকে তবে তা সিমলা চুক্তি এবং লাহোর ঘোষণা দ্বারা অনুসরণ করা উচিৎ। তবে যেকোনও অর্থবহ সংলাপ শুধুমাত্র সন্ত্রাস, শত্রুতা ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশে হতে পারে। এমন একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার দায়িত্ব পাকিস্তানের। ততক্ষণ পর্যন্ত ভারত সীমান্তের ওপার থেকে মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় ও নিষ্পত্তিমূলক পদক্ষেপ করতে থাকবে।”
পাকিস্তান ইউএনএসসিতে কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন করার পর, ভারত পাল্টা জবাব দেয়। ভারত বলেছে, "আমরা এটা স্পষ্ট করতে চাই যে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি সর্বদাই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর কিছু অংশ অবৈধভাবে পাকিস্তানের দখলে, তাই পাকিস্তানকে অবিলম্বে এই এলাকাগুলো খালি করতে হবে। পাকিস্তানে সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষের মধ্যে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হয়রানির শিকার হয়।"
একই সময়ে, পাকিস্তান ইউএনএসসিতে স্থায়ী আসনের জন্য গ্রুপ অফ ফোর ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি এবং জাপানের পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে। জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি, রাষ্ট্রদূত মুনির আকরাম, একটি বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে, জাতিসংঘের মধ্যে বিশেষাধিকারের নতুন কেন্দ্র তৈরির কোন যৌক্তিকতা নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুনির বলেছেন, যে কোনও দেশ নিরাপত্তা পরিষদে অবিচ্ছিন্ন উপস্থিতি চায়, তাদের উচিৎ সময়ে সময়ে সাধারণ পরিষদের নির্বাচনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সাপেক্ষে। 15-সদস্যের কাউন্সিলকে দুই বছরের অস্থায়ী বিভাগে সম্প্রসারণের জন্য ইতালি/পাকিস্তান-নেতৃত্বাধীন ইউনিটিং ফর কনসেনসাস (ইউএফসি) গ্রুপের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রুপটি পৃথক সদস্য রাষ্ট্রের স্থায়ী সদস্যতার প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে।
জাতিসংঘে পাকিস্তানের প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আকরাম বলেছেন, ইউএফসি বিশ্বাস করে যে, ইউএনএসসির ব্যাপক সংস্কারের জন্য তাদের প্রস্তাব একটি চুক্তির সেরা ভিত্তি হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থায়ী সদস্যদের সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের বিষয়ে চুক্তি না হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন যে নতুন স্থায়ী সদস্য যোগ করা অচলতার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলবে।
No comments:
Post a Comment