ইন্টারস্টিশিয়াল ফুসফুসের রোগ বা আইএলডি এটি ফুসফুসের অ্যালভিওলির (ইন্টারস্টিটিয়াম) মধ্যবর্তী স্থানকে প্রভাবিত করে। এতে অ্যালভিওলির মধ্যবর্তী কোষগুলো পুরু হয়ে যায়। এ কারণে ব্যক্তি ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারে না এবং রক্তে সঠিক পরিমাণে অক্সিজেন পৌঁছায় না।
পালমোনারি ফাইব্রোসিস হল প্রধান ধরনের আইএলডি যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পাওয়া যায়। এছাড়াও, এর মধ্যে রয়েছে সারকয়েডোসিস, হাইপারসেনসিটিভিটি নিউমোনাইটিস, সংযোগকারী টিস্যু রোগ এবং ফুসফুসের রোগ।
রোগের প্রধান উপসর্গ: শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া এর প্রধান উপসর্গ। হাঁটা বা কাজ করার সময় শ্বাসকষ্ট রোগের প্রাথমিক পর্যায়। শারীরিক কার্যকলাপ ছাড়া শ্বাসকষ্ট রোগের তীব্রতাও নির্দেশ করে। ঘন ঘন শুকনো কাশিতে রোগী ক্লান্ত বোধ করেন।
আইএলডির প্রধান কারণ: অটো ইমিউন রোগ, পরিবেশগত পদার্থের সংস্পর্শ যেমন, কয়লা, শস্যের ধুলো, সূক্ষ্ম নুড়ি, পাখির এক্সপোজার, ইত্যাদি থেকে হয়। এর ওষুধ যেমন, কেমোথেরাপি, অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যামিওডারোন।
রোগ শনাক্ত করার উপায় : প্রধান পরীক্ষাগুলো বুকের এক্স-রে এবং সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করে। স্পাইরোমেট্রি, ছয় মিনিট হাঁটার পরীক্ষা, ব্রঙ্কোস্কোপি এবং ফুসফুসের বায়োপসি রোগ নির্ণয় করে।
এর চিকিৎসা কি: চিকিৎসা রোগের তীব্রতার উপর নির্ভর করে। প্রাথমিক পর্যায়ে অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিফাইব্রোটিক, স্টেরয়েড, ইমিউনোসপ্রেসিভ ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়।
রোগের বিকাশের সাথে সাথে রোগীকে সারাজীবনের জন্য অক্সিজেন নিতে হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে, রোগী যদি বারবার সংক্রমণের অভিযোগ করেন, তবে ফুসফুস প্রতিস্থাপনও করা হয়।
রোগ নিয়ন্ত্রণ উপায় : নিয়মিত ওষুধ খান। খাবারে প্রোটিন সমৃদ্ধ জিনিস যেমন পনির, দুধ, ডাল ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করুন। ঠান্ডা জিনিস এড়িয়ে চলুন। যোগব্যায়াম, প্রাণায়াম এবং ব্যায়ামকে রুটিনের একটি অংশ করুন। ধূমপান এবং মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন।
No comments:
Post a Comment