প্রদীপ ভট্টাচার্য, প্রেসকার্ড নিউজ : কুলেখাড়া, বাংলায় এটি খুবই পরিচিত নাম। এর ঔষধি গুণও অনেক। এটি হল একধরনের ভেষজ উদ্ভিদ। একে কোনও কোনও জায়গায় কুলপো শাকও বলে। এই গাছে কাঁটা থাকে। একে শাক হিসাবেও খাওয়া হয়।
সাধারণত পুকুর পার, নর্দমা, ধানক্ষেত, জমির আল ও রাস্তার ধারে একে দেখা যায়।
আমাদের দেশ, চীন, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, আফ্রিকা সহ বাংলাদেশে এই প্রজাতি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত।
কুলেখাড়া শাকে থাকে ভিটামিন এ, আয়রন, উৎসেচক ও স্টেরন। তাই এটিকে বিভিন্ন রোগ প্রতিকারে ব্যবহার করা হয়। কুলেখাড়া পাতা রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়াতে, ফোলা, ফিসচুলা, পৌরুষ শক্তি, মুত্রনালীর সমস্যা, কোমরের বাত, পেটের অসুখ, আমাশয় ও সর্দি-কাশিতে খুবই কাজ দেয়।
পায়ের কোনো অংশ ফুলে গেলে এক চামচ কুলেখাড়া পাতার রসের সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে খান, উপকার পাবেন। শরীরের কোনও অংশ কেটে গেলে এই পাতা থেঁতো করে সেই জায়গায় লাগান, রক্ত বন্ধ হবে।
আপনার রক্তে হিমোগ্লোবিন কম ? চিন্তা নেই। কুলেখাড়া পাতা সিদ্ধ করে ছেঁকে নিয়ে সেই জল খান। হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া আপনি এই পাতার রসও সামান্য গরম করে খেতে পারেন। ঘুমের সমস্যা হলে, নিয়মিত এই পাতার রস দু চামচ করে খান, উপকার পাবেন।
যৌন মিলনে অনিচ্ছা ? কুলেখাড়া বীজ ও আলকুশি বীজ গুঁড়ো করে একসঙ্গে গরম দুধের সাথে মিশিয়ে নিয়মিত রাতের বেলা খান। অনিচ্ছা দূর হবে। সকলেই জানে হারপিস একটি খুবই যন্ত্রণাদায়ক রোগ। এটি হলে এই পাতা ও কাঁচা হলুদ একসঙ্গে বেটে লাগান।
যন্ত্রণা তো কমবেই, সঙ্গে ক্ষতও শুকোবে তাড়াতাড়ি। রক্তে ইউরিক অ্যাসিড থাকলে, এই শাক খেলে রক্ত নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কুলেখাড়া শাক নিয়মিত খেলে হাঁটু ও কোমরের জয়েন্টের ব্যাথা দূর হয়। এছাড়া লিভারের সমস্যা দূর করতেও এই পাতার রস খুবই উপকারী। ফিসচুলা হলো এমন একটি রোগ, যার কোনও চিকিৎসা নেই অপারেশন ছাড়া। তবে নিয়মিত কুলেখাড়া শাক খেলে কষ্ট অনেকটাই দূর হয়।
তবে এটা মনে রাখবেন, আপনার যদি কোনও কঠিন রোগ থাকে তাহলে এগুলো ব্যবহারের আগে অবশ্যই একজন আয়ুর্বেদিক ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।
No comments:
Post a Comment