সায়াটিকা হল একটি সাধারণ ব্যথা যা সায়াটিক নার্ভের দুর্বলতা বা প্রভাবিত হওয়ার কারণে ঘটে। সায়াটিকা হল শরীরের সবচেয়ে বড় স্নায়ু যা মেরুদন্ড থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত প্রসারিত। সায়াটিকায়, ব্যথা কম এবং খুব বেশিও হতে পারে। সাধারণত কোমরের সাথে সম্পর্কিত শিরা ফুলে যাওয়ার কারণে এটি হয়ে থাকে। এতে পিঠ ও পায়ের নিচ পর্যন্ত অসহ্য যন্ত্রণা হয়।
সায়াটিকা হলে দুর্বলতা বেড়ে যায় । এ ছাড়া ভারী ওজন তুলতে সমস্যা হয়। সেই সঙ্গে পায়ে প্রবল খিঁচুনি হয়। এর ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে অনেক সময় পায়ের আঙুল অসাড় হয়ে যায়। এই সমস্যাকে উপেক্ষা করলে শরীরের অভ্যন্তরীণ স্নায়ুতেও খারাপ প্রভাব পড়তে শুরু করে। তাই সময়মতো সায়াটিকার লক্ষণগুলো চিনতে হবে এবং সঠিক চিকিৎসা করতে হবে।
সায়াটিকার লক্ষণ:উঠতে বা বসতে বা যেকোনো ধরনের নড়াচড়ার সময় ব্যথা।পায়ে দুর্বলতা বা অসাড়তা অনুভব করা।পায়ের আঙ্গুল ঝিনঝিন করা।ধীরে ধীরে কোমরে ব্যথা বাড়তে থাকে।পায়ের পিছনে ব্যথা অনুভূত হয়। বসা অবস্থায় পায়ের পিছনে ব্যথা বৃদ্ধি।নিতম্বে ব্যথা।পায়ের পেছনে একপাশে ব্যথা। দাঁড়ানো অবস্থায় পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করা।
কেন হয় সায়াটিক:সায়াটিকার অনেক কারণ রয়েছে। মেরুদণ্ডের স্নায়ুতে সমস্যা বা পিছনের স্নায়ুতে জটিলতার কারণেও সায়াটিকা হতে পারে। আঘাতের কারণেও সায়াটিকা হতে পারে। অনেক সময় কোথাও পড়ে যাওয়ার কারণে স্নায়ু প্রসারিত হয়, যার কারণে সায়াটিকা হয়। একমাত্র চিকিৎসকই প্রকৃত কারণ বলতে পারবেন।
কিভাবে সায়াটিকার ব্যথা কমাতে হয়:ব্যথার ক্ষেত্রে, ব্যথাযুক্ত স্থানে বরফের প্যাক লাগালে আরাম পাওয়া যায়। ঠান্ডা শাকসবজিও তোয়ালে মুড়িয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগানো যেতে পারে। হিটিং প্যাড সায়াটিকার ব্যথায় আরাম দেয়।
যদি বরফের প্যাক ব্যথা উপশম না করে তবে হিটিং প্যাড ব্যবহার করুন। এ ছাড়া দুই-তিন দিনের ব্যবধানে কখনো হিটিং প্যাড আবার কখনো আইসপ্যাক ব্যবহার করলে আরাম পাওয়া যায়।
স্ট্রেচিংও সায়াটিকায় আরাম দেয়। পিঠের নিচের দিক স্ট্রেচিং করে ব্যথা কমানো যায়।সায়াটিকার ক্ষেত্রেও যোগব্যায়াম সহায়ক। যোগব্যায়াম যদি প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে করা হয়, তাহলে তা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
No comments:
Post a Comment